ছেলের খুনিদের শাস্তির দাবিতে চোখের জল ফেলছেন বৃদ্ধা
নিহত আবু রায়হানের বৃদ্ধা মা রাহেলা খাতুন
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৫৬
ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামে কাস্টমসের নিরাপত্তা কর্মী আবু রায়হান তালুকদারের ১৫ টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতে থানায় মামলাটি করেন তাঁর বড় ভাই নুরুল ইসলাম। আসামি করা হয়েছে, বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু, তাঁর ভাতিজা জিতুলসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে। লাশ উদ্ধারের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ছেলের ১৫ টুকরো লাশ উদ্ধারের পর থেকে বিলাপ করছেন নিহত আবু রায়হানের বৃদ্ধা মা রাহেলা খাতুন। ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবিতে চোখের জল ফেলছেন তিনি।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের ছোট ছেলে আবু রায়হান তালুকদার। বাংলদেশ কাস্টমস হাউস আইসিডি কমলাপুরে সিপাহী পদে কর্মরত ছিলেন। গত ২৩ জুলাই রাতে কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন আবু রায়হান। রাতে নিজ ঘরেই ছিলেন আবু রায়হান ও বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু। পরদিন আবু রায়হানকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে বড় ভাই নুরুল ইসলাম কেয়ারকেটার রাজুর কাছে জানতে চান। রাজু তাঁকে জানান, মোটরসাইকেলে করে কাহালগাঁও বাজারে পৌঁছে দিয়েছেন। সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে ঢাকায় চলে গেছেন আবু রায়হান। এরপর ২৬ জুলাই ঢাকা থেকে বেদেনা খাতুন নামে এক সহকর্মী বাড়িতে ফোন করে জানান, আবু রায়হান অফিসে যাননি। গত ২৭ জুলাই থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান রাজু ও জিতুল। তারা অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা। উভয়েই মাদকাসক্ত এবং অনলাইন জুয়াড়ি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিখোঁজের ১০ দিন পর গত রোববার বিকেলে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলার ভেতরে ১৫ টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আবু রায়হান প্রায় ১০ বছর আগে আছিম পাটুলী ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে বিয়ে করেন। ৫ বছর আগে তাদের সংসার ভেঙে যায়। বৃদ্ধ মা রাহেলা খাতুন, বড় বোন হাসিনা খাতুনসহ বাড়ি ও জমিজমা দেখার জন্য পাশের অনন্তপুর গ্রামের রাজু নামে এক কিশোরকে কেয়ারটেকার নিয়োগ দেন। মামলার বাদী নুরুল ইসলামের ভাষ্য, তিনি জানতে পেরেছেন, আবু রায়হান নিখোঁজের পর চারবার তাঁর এটিএম কার্ড ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
অনন্তপুর গ্রামের যুবক অপুর ভাষ্য, গত শনিবার সকালে বাজুয়া নদীপারের জমিতে বেগুন তুলছিলেন তারা। সে সময় জিতুল মির্জাকে একটি চাবির ছড়া এবং দুটি এটিএম কার্ড ভেঙে নদীতে ফেলতে দেখেন তিনি।
নুরুল ইসলাম তালুকদার জানান, তাঁর ভাই আবু রায়হান সহজ-সরল ও মা ভক্ত ছিলেন। মাকে দেখতে প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন। বৃদ্ধা মা ও জমিজমা দেখাশোনার জন্য দশম শ্রেণির ছাত্র রাজুকে কেয়ারটেকার হিসেবে রেখেছিলেন। সেই রাজু ও তাঁর বন্ধু জিতুলসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে রায়হানকে হত্যা করে।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, গত সোমবার হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।