পাবনায় মিছিলে গুলি
শিক্ষার্থী জাহিদ ও নিলয় হত্যার মূল আসামিরা ধরা পড়েনি
মাহাবুব হোসেন, জাহিদুল ইসলাম
এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও মাহাবুব হোসেন নিলয় নামের দুই শিক্ষার্থী শহীদ হন। জাহিদ পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সিভিল প্রথম বর্ষ ও নিলয় ছিদ্দিক মোমোরিয়াল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
সেদিন হামলায় আহত হন শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের। তাদের সবার হাতেই ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় ১১ ও ৩০ আগস্ট দুটি মামলা হয়। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খান এবং সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স। একটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হলেও অন্যটির তদন্ত এখনও ডিবির অধীনে রয়েছে। দুই মামলায় এ পর্যন্ত ২০৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার দুই বছর পরও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদদের স্বজনরা। এদিকে, শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফোনে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও শহীদ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা ১১টায় পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আব্দুল হামিদ রোডের ট্রাফিক মোড়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করছিলেন। সেই কর্মসূচিতে দুই দিক থেকে হামলা করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলবল নিয়ে এক প্রান্তে ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স। অপর প্রান্তে আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিলে তারা পিছু হটে।
দ্বিতীয় দফায় ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খান ও তাঁর লোকজন সশস্ত্র হামলা ও গুলি চালায়। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিস্তল দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। জাহিদ ও নিলয় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
- বিষয় :
- জুলাই যোদ্ধা