ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিচারের আশায় ফেনীর শহীদের স্বজনেরা

বিচারের আশায় ফেনীর  শহীদের স্বজনেরা
×

ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ

 দিলদার হোসেন স্বপন, ফেনী

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফেনীর ১১ জন প্রাণ হারান। এর মধ্যে ৪ আগস্ট সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে মহিপাল এলাকায়। সেদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের একদফা দাবিতে আন্দোলনের ঢেউ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। উত্তাল ছিল মহিপাল এলাকা। হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সশস্ত্র নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় মহিপাল এলাকা। গুলিতে প্রাণ হারান সাত আন্দোলনকারী। তাদের স্বজনেরা আজও বিচারের আশায় আছেন। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তারা। 

ফেনীর মহিপালে সহিংস ঘটনায় সাতজন এবং ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলায় ফেনীর চারজন নিহত হন। 
নিহতরা হলেন ওয়াকিল আহাম্মদ শিহাব, ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ, মো. জাকির হোসেন সাকিব (২০), সরোয়ার জাহান মাসুদ (২১), মাহবুবুল হাসান (২৫), ছাইদুল ইসলাম (১৯), মোহাম্মদ সবুজ (২১), মো. ইকরাম হোসেন কাওছার (২৩), মো. আবদুল গণি (৩৫), সাইফুল ইসলাম আরিফ (২১) ও মো. ছিদ্দিক উল্যাহ শিবলু (৩৬) নিহত হন। 
সাতটি হত্যাসহ ২২টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে এজাহারভুক্ত দুই হাজার ৫০৫ জনের মধ্যে এক হাজার ২০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনটি হত্যা মামলা ও সাতটি আহতের মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

ফেনীতে প্রথম শহীদ হন ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ। তিনি ২০২৩ সালে ফেনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে শ্রাবণ ছিলেন সবার বড়। চব্বিশের ৪ আগস্ট দুপুরে মহিপাল এলাকায় বিক্ষোভ করার সময় ছয়টি গুলিতে বিদ্ধ হন শ্রাবণ। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিলে শ্রাবণকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। 
শ্রাবণের বাবা নেছার আহমেদ ও মা ফাতেমা আক্তার শিউলি বলেন, ‘অনেক আসামি দেশের বাইরে চলে গেছে। অনেকে দেশে থাকার পরেও আইনের আওতায় আসেনি। দুই বছর হতে চলল এখনও ছেলে হত্যার বিচার শুরু হয়নি। ছেলেকে তো ফিরে পাব না। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই।’ 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফেনী জেলার সংগঠক মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, ‘৪ আগস্ট মহিপাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বেলা প্রায় ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি হঠাৎ ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গুলি শুরু হয়। চারদিকে মানুষের চিৎকার, দৌড়াদৌড়ি। আমি নিজেও গুলিবিদ্ধ হই।’ 
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মোহাইমিন ইসলাম তাজিম বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধাদের ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত। 

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ফেনীতে দুই দফায় ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছেন ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা হক। কিন্তু এতদিনে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও 
উদ্ধার হয়নি।
ফেনী পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ফেনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতের ঘটনায় সাতটি হত্যাসহ ২২টি মামলা হয়েছে। এক হাজার ১৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যা মামলাগুলোর মধ্যে তিনটি ও আহত হওয়ার ঘটনায় ১৫টি মামলার মধ্যে সাতটি মামলায় ৯৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার ওপর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ২৬ জন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। অস্ত্রধারীর মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, সরকার জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×