ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরছে থানা হেফাজতে থাকা সেই হাতি

আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরছে থানা হেফাজতে থাকা সেই হাতি
×

ছবি- সমকাল

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৫১

ফরিদপুরের সদরপুরে সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর জব্দ হয়ে এক সপ্তাহ ধরে থানা হেফাজতে থাকা হাতিটি অবশেষে আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরছে। মঙ্গলবার আদালত এক আদেশে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাতিটি তার প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

গত ২৮ জুলাই সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী শিশু আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুতকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ মাহুতকে উদ্ধার করে আটক করে এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে যায়।

পরদিন পুলিশ আটক মাহুত জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের আনিসউদ্দিনের ছেলে বকুল মিয়াকে (২৪) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। একই সঙ্গে জব্দ করা হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, হাতিটির মালিক নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী দুলাল দেওয়ানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি নিজে সার্কাস পরিচালনা না করলেও বিভিন্ন সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়া দিয়ে থাকেন। তবে আদালতের নির্দেশ এলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনেই ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

গত সাত দিন ধরে হাতিটি থানা প্রাঙ্গনে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এ সময় হাতিটির দেখভালের জন্য মালিকের পক্ষ থেকে মাহুত নাজমুল সরদার (১৭) থানায় অবস্থান করেন। তিনি নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাবার খাওয়ানো, হাঁটানো এবং পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন।

এক সপ্তাহ ধরে থানায় হাতিটি রাখার ফলে খাদ্যের ব্যবস্থা করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কলাগাছ, ঘাস ও অন্যান্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়। থানা প্রাঙ্গণে স্থায়ী খাদ্যব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ ও মাহুতকে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মালিকের সহযোগিতায় খাদ্যের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত ছিল না।

এদিকে থানা প্রাঙ্গণে হাতিটির অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিনই শিশু, কিশোর, তরুণসহ নানা বয়সী মানুষ হাতিটিকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই হাতিটি তার মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন

×