ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সংঘাত এড়িয়ে কৌশলী অবস্থানে ছাত্রদল ও শিবির

সংঘাত এড়িয়ে কৌশলী অবস্থানে ছাত্রদল ও শিবির
×

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৩১ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৩৩

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির মুখোমুখি অবস্থান থাকলেও ভিন্ন চিত্র বিরাজ করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি)। রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অতীত ইতিহাস থাকলেও, চলমান পরীক্ষা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে আপাতত প্রকাশ্যে সহিংসতা এড়িয়ে কৌশলী ভূমিকা রাখছে এই দুই ছাত্রসংগঠন।

তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা তাদের মধ্যে প্রভাব ফেললেও সহসা মুখোমুখি হতে চাইছেন না তারা। দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, মুখোমুখি হলে তাদের বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনো দলের একক আধিপত্য বিস্তার বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অ্যাকাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।

প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ সমকালকে বলেন, ‘ইন্টেরিম পরবর্তী সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রদল ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং নতজানু প্রশাসন তাদের সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়, আমরা কোনো পক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ চাই না।’

অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘ছাত্রদল সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কিন্তু শিবির যদি আবার হামলা বা সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে।’

সচেতন শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত। এই সময়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আপাতত ধৈর্য ধরার কৌশল অবলম্বন করছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

চলমান পরীক্ষার কারণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন চাকসুর এজিএস আয়ুবুর রহমান তৌফিকও। তিনি জানান, পরীক্ষা চলাকালীন অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে। তাই, সবাই এখন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে।

তবে কিছুটা উত্তাপ দেখা গেছে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিবের মুখে। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পরই ছাত্রদল হল দখল করে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। এজন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। ছাত্রলীগের মধ্যে আমরা এমন চরিত্র দেখেছি। গত কয়েকদিনে ছাত্রদলও তারই ফটোকপি করছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কখনো প্রশ্রয় দেবে না। চাকসু সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চায়। নেতাদের প্রতি সবার আস্থা আছে। নিজেদের অধিকার রক্ষায় শিক্ষার্থীরাই কাজ করবে।’

আরও পড়ুন

×