ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢলের তোড়ে ভেঙে গেছে কাঠের ব্রিজ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১০ গ্রাম

ঢলের তোড়ে ভেঙে গেছে কাঠের ব্রিজ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১০ গ্রাম
×

ঢলের তোড়ে গতকাল শুক্রবার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে গণেশ্বরী নদীর ওপর কাঠের ব্রিজ ভেঙে গেছে সমকাল

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক ঢলের তোড়ে কলমাকান্দা উপজেলায় গণেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত একটি কাঠের ব্রিজ ভেঙে গেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নাজিরপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। ব্রিজটি ভেঙে ভেসে যাওয়ায় নলচাপড়া থেকে রানীগাঁও সড়কের যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে বিকল্প কোনো পথ না থাকায় ওই এলাকার অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিন জানা গেছে, গণেশ্বরী নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে উজান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা, গাছপালা ও বাঁশের ধাক্কায় কাঠের ব্রিজটির মাঝের অংশ ভেঙে বিলীন হয়েছে। ব্রিজের দুপাশের রেলিং এবং পাটাতনের কাঠগুলো এলোমেলোভাবে ভেঙে ঝুলে আছে। নদীর পানি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হওয়ায় ওই স্থানে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় রানীগাঁও, দমদমা, আমবাড়ি পাড়া, নান্দাইলা পাড়া, চরপাড়া, দুগরি পাড়া, গুড়াগাঁও, খারনৈ, গোপাল বাড়ি ও বেদবাড়ি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন গ্রামগুলোর বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন রোগীরা। উপজেলা সদরে বা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য এখন বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকা এবং কলাগাছ বা বাঁশের ভেলায় চড়ে উত্তাল নদী পার হতে হচ্ছে তাদের। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানে একটি পাকা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। তবে সম্প্রতি জনদুর্ভোগ লাঘবের কথা চিন্তা করে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁর নিজ উদ্যোগে এই কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানির অস্বাভাবিক চাপ ও আবর্জনার ধাক্কায় ব্রিজটি টিকতে পারেনি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর আক্ষেপ, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে বা পাহাড়ি ঢল নামলে এভাবেই কাঠের বা বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ব্রিজগুলো ভেঙে যায় এবং তাদের মাসের পর মাস ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই প্রতিবছরের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে গণেশ্বরী নদীর ওপর অবিলম্বে একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উত্তর রানীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, ‘এই সেতুটি আমাদের এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল। এটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। দ্রুত একটি নিরাপদ নদী পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি।’

কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার ভাষ্য, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে আকস্মিক ঢলের স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা, গাছ ও বাঁশ ব্রিজের খুঁটিতে প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে, যার ফলে মাঝের অংশটি ভেঙে যায়। এলাকার মানুষের দ্রুত পারাপারের জন্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজ উদ্যোগে ব্রিজটি করে দিয়েছিলেন। দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের চেষ্টা করবেন তারা। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে বিষয়টি জানিয়ে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক জানান, কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
জানতে চাইলে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আপাতত জরুরি পারাপারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়েও প্রশাসন কাজ করছে।

আরও পড়ুন

×