কালভার্টের অভাবে ভুগছে ৩০ হাজার মানুষ
দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজার-নরসিংপুর সড়কে একমাত্র বাঁশের সাঁকো। বুধবার তোলা সমকাল
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায় একটি কালভার্টের অভাবে দুই যুগ ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেখানে দুটি ইউনিয়নে বসবাসরত অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।
উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্যামারগাঁও এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়ক ভেঙে খালে পরিণত হওয়ার পর থেকে একটি বাঁশের সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়নের সংযোগকারী একমাত্র গ্রামীণ সড়ক। এ সড়ক দিয়েই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য যাতায়াত করতে হয়। প্রায় ২৪ বছর আগে পাহাড়ি ঢলে শ্যামারগাঁও এলাকার অংশটি ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে হাওরের পানির স্রোতে গর্তটি স্থায়ী খালে পরিণত হয়।
নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা কালভার্ট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিলেও পরে আর কেউ খোঁজ রাখেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিদিন একাধিক স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। এছাড়া সিলেটের ভোলাগঞ্জ ও উৎমাছড়ায় কাজের উদ্দেশে যাওয়া শত শত দিনমজুরের চলাচলের পথও এটি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উদাসীনতায় দুই যুগেও সমস্যাটি সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কলাউরা গ্রামের বাসিন্দা আশিক মিয়া ও শ্যামারগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, প্রতি বছর এলাকাবাসী চাঁদা তুলে ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। দুর্ভোগ লাঘবে তারা এখানে দ্রুত একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল হামিদ জানান, সড়কটিতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচলের বিষয়টি সম্প্রতি তিনি জেনেছেন। দ্রুত সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- সেতু