ঠিকাদারদের কাছে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি পিআইওর
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৮ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাছে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে কয়েকজন ঠিকাদার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে নিকলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দুদকসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছে মেসার্স সায়রা ট্রেডার্স, মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স, মেসার্স আনিস ট্রেডার্স, মেসার্স তারেক ট্রেডার্সসহ বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগে বলা হয়, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহনির্মাণ প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে পিআইও দেলোয়ার হোসেন ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। বিভিন্নজন তাঁকে বোঝালেও কোনো কাজ হয়নি। যে কারণে তিনি পুনঃটেন্ডার আহ্বান করেছেন। পুনঃটেন্ডারে দরপত্র জমা পড়লেও এক মাসের মতো হয়ে গেছে, তিনি লটারির আয়োজন করছেন না। তিনি ঠিকমতো অফিসেও যান না। প্রত্যেক ঠিকাদার ৮ লাখ টাকার পে অর্ডার যুক্ত করে টেন্ডারে অংশ নিয়েছেন। ফলে ঠিকাদারদের পে অর্ডার বাবদ ১২ কোটি টাকার বেশি পড়ে আছে। এতে ঠিকাদারদের ব্যাংক ঋণের সুদ বাড়ছে। পিআইও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী ঠিকাদাররা।
মেসার্স সায়রা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিউজ্জামান তোফায়েল জানান, দুই কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্পে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মোট ১৪টি ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রথম টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল প্রায় দুই মাস আসে। তখন ৫২টি দরপত্র বিক্রি হয়েছিল। চার বছর আগের মূল্যে যেহেতু ঘরগুলো নির্মাণ করতে হবে, সেই কারণে তেমন লাভ হবে না। ফলে সব ঠিকাদার একটি সমঝোতা করে শতকরা ৫ ভাগ নিম্নদরে একজনকে কাজটি দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কথা ছিল, যিনি কাজ পাবেন, তিনি অন্য ঠিকাদারদের ৫ ভাগ টাকা বাবদ ১৫ লাখ টাকা দিয়ে দেবেন। ঠিকাদারিতে এই সমঝোতার বৈধতা আছে বলে জানিয়েছেন তোফায়েল। কিন্তু পিআইও দেলোয়ার হোসেন এই ৫ ভাগ টাকা বাবদ ১৫ লাখ টাকা তাঁকে দিতে হবে বলে দাবি করেন। কিন্তু ঠিকাদাররা তাতে রাজি না হওয়ায় গত ২৪ জুন পুনঃদরপত্র আহ্বান করেন।
শফিউজ্জামান তোফায়েল আরও জানান, নতুন দরপত্র কিনেছেন ১০০ জন ঠিকাদার। প্রতিটি দরপত্র কিনতে হয়েছে ৮ লাখ টাকা দিয়ে। তিনি নিজেও ১৬ লাখ টাকায় দুটি দরপত্র কিনেছিলেন। কিন্তু পিআইও দরপত্রের লটারি দিচ্ছিলেন না। এদিকে ব্যাংক থেকে ঋণ করে টাকা নিয়ে দরপত্র কিনতে হয়েছে। ব্যাংকে সুদ বাড়ছে। যে কারণে ঠিকাদাররা ৪ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পিআইও ওই দিনই ঘোষণা দিয়েছেন, ১১ আগস্ট লটারি হবে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার মোবাইল ফোন নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। নিকলীর ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তিকে ফোন করলে তিনি অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু জেলা প্রশাসকের কাছে মূল অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেভাবেই কাজ হবে।’
অভিযোগের বিষয়টি জেনেছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন সমকালকে বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। তবে অভিযোগটি এখনও আমার হাতে আসেনি। হাতে এলে একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়ে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করানো হবে।’