ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

সরকারি ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

ইমাম-মুয়াজ্জিনের থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, বিএনপির ২ নেতাকে অব্যাহতি

ইমাম-মুয়াজ্জিনের থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, বিএনপির ২ নেতাকে অব্যাহতি
×

হারুন অর রশিদ ও মো. ইউছুফ। ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৩৫ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৩৪

মসজিদ কমিটির ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিএনপির দুই স্থানীয় নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পদ হারানো নেতারা হলেন—দরবেশপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুফ।

শনিবার দুপুরে দরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। অব্যাহতি পত্রে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন স্বাক্ষর করেন। 

অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে হারুন ও ইউছুফকে স্থায়ীভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এর পর থেকে তারা দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। এই অব্যাহতির অনুলিপি লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম ও উপজেলা বিএনপিকে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হয়ে থাকলে, তিনি এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

অন্যদিকে মো. ইউছুফ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে বলেন, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করা হোক। তিনি মিথ্যা বা ভিত্তিহীন অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান। 

দরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ভাতা দিচ্ছে। হারুন ও ইউছুফের ওয়ার্ডের একটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের কাছ থেকে তারা পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। ঘটনাটি জানতে পেরে আমি ও আমার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সরজমিনে গিয়ে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।’ 

তিনি আরও বলেন, হারুন ও ইউছুফের দাবি—টাকাগুলো মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ নিয়েছেন। তবে তদন্তে দেখা গেছে, মূলত টাকাটা তারা দুজনই নিয়েছেন। মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিএনপির কেউ নন, তাই তার বিরুদ্ধে আমাদের দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হারুন ও ইউছুফকে দলীয় পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দিয়েছি। 

আরও পড়ুন

×