ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ

চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ
×

ছবি: ফাইল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:১৫

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রমাণ সামনে আসার দাবি করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনও। এজন্য এ ধরনের হীন কাজের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে ওই চিকিৎসককে ইন্টার্নশিপ থেকে বয়কটের ঘোষণাও দিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। 

সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. ইরফানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. সাকিব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. জামান মো. নুরশাদ এতে স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মুবাশ্বীর আহম্মেদ মুহাক্কিকের (শুভ্র) বিরুদ্ধে সমকামিতায় জড়িত থাকার প্রমাণ সামনে এসেছে। তাই, তাকে ইন্টার্নশিপ থেকে বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছে। কলেজে এ ধরনের আরও কিছু ঘটনা সামনে আসায় সর্বস্তরের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসকরা বিব্রত। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবেই এদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই, ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য চমেক হাসপাতালের পরিচালক এবং চমেক অধ্যক্ষকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। ডা. মুবাশ্বীর চমেক এমবিবিএস ৬২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তবে তিনি ৬৩তম ব্যাচের সঙ্গে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সমকালকে বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছি। এটির যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে আমরাও বিব্রত।’ 

সভাপতি ডা. মো. সাকিব হোসেন বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক সমকামিতার সঙ্গে জড়িত থাকার খবরে আমরা খুবই বিব্রত। এটি আমাদের সবার জন্যই চরম লজ্জার। তাই, আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক আমাদের সঙ্গে আর কাজ করতে পারবে না। আমাদের ইন্টার্নশিপের সময় শেষ হতে আরও তিনমাস বাকি রয়েছে। এই সময়ে সে কোনোভাবেই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে পারবে না। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও বলেছি। 

কলেজের শিক্ষার্থীরা এক যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, ৬২তম এমবিবিএস ব্যাচের ডা. মুবাশ্বীরের বিরুদ্ধে সমকামিতা সংক্রান্ত আচরণ এবং ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ পরিপন্থি কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার মোবাইল ফোন থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্তও পাওয়া গেছে। এ বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীরা তদন্ত করে কলেজের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×