ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

এমপির সমাবেশের এক দিন পর ভাইয়ের পাল্টা সমাবেশ

এমপির সমাবেশের এক দিন পর ভাইয়ের পাল্টা সমাবেশ
×

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:২১

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সমাবেশের এক দিন পর ১৪৪ ধারা ভেঙে পাল্টা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশের নেতৃত্ব দেন তাঁরই ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে পৌরশহরের বাগানবাড়ি এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। 

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মইন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এই সমাবেশ তাঁর ভাই নাসির উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নয়; বরং তাঁকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য। নাসির চৌধুরী ৪০ বছর ধরে দিরাই-শাল্লায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সব সময় তিনি অন্যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন। সারাজীবন চোরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এখন ডাকাত পালছেন।’ 

নাসির উদ্দিন চৌধুরী সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে ছোট ভাই মাসুক চৌধুরীর দূরত্ব তৈরি হয়। গত এক মাস ধরেই দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলে আসছে। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিরাই শহরের থানা পয়েন্টে বিএনপির এক সমাবেশে নাসির উদ্দিন চৌধুরী তাঁর ছোট ভাইয়ের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার কোনো ভাই নাই, আমি একা। দলের নাম ভাঙিয়ে যারা চুরি-দুর্নীতি করার সুযোগ পাচ্ছেন না, তারাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’ 

এর জবাবে গতকালের সমাবেশে মইন উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবারের সমাবেশে বলা হয়েছিল, এমপি সাহেবকে নাকি আয়নাঘর থেকে মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি মুক্ত হননি, বরং তাঁকে নতুন করে নিজের ঘরেই বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁর আশপাশে ফ্যাসিস্টের দোসররা বিএনপির পরিচয়ে অবস্থান নিয়েছেন। তারা ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছেন। 

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল হক বলেন, জেলা কমিটির পক্ষ থেকে দুপক্ষকে একসঙ্গে সমাবেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা কেন মানা হলো না, তা খতিয়ে দেখা হবে। 

এদিকে, গতকালের সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকে দিরাই শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাতে দুপক্ষ শহরে মিছিল করে। গতকাল সকালে থানা পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন নাসির চৌধুরীর অনুসারীরা। এ সময় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সকালে থানা পয়েন্ট ও বাগানবাড়ি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। তবে দুপুরের পর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাগানবাড়ির সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। লোকসমাগম বাড়তে থাকায় প্রশাসন ও পুলিশ সমাবেশে বাধা দেয়নি। 

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার বলেন, দুপক্ষে কর্মসূচির কারণে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় থানা পয়েন্ট ও বাগানবাড়ি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সমাবেশে আর বাধা দেওয়া হয়নি। 

আরও পড়ুন

×