তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ঘরে তোলায় দ্বন্দ্ব, ভাতিজাদের হামলায় চাচি নিহত
প্রতীকী ছবি
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:৩৪
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ফের বাড়িতে তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত রাবেয়া খাতুন (৩৯) মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত রাবেয়া খাতুন উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রাম এলাকার ভ্যানচালক মকছেদ আলীর স্ত্রী।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে রাবেয়ার বড় ছেলে সুমনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বৃষ্টির তালাক হয়। তবে গত ৪ আগস্ট রাবেয়া ও তাঁর ছেলে সুমন বৃষ্টিকে আবার বিয়ে দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে রাবেয়ার ভাতিজা শরিফ হোসেন (২৬), রাকিবুল ইসলাম ও তাঁদের সহযোগী আসাদুল হোসেন (৩০) ক্ষুব্ধ হন।
স্বজনদের অভিযোগ, ওইদিন সন্ধ্যায় শরিফ, রাকিবুল ও আসাদুলসহ কয়েকজন রাবেয়ার বাড়িতে গিয়ে রড, চাপাতি, বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে রাবেয়া মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শনিবার দুপুরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বামী মকছেদ আলী বলেন, ‘ভাতিজাদের না জানিয়ে আমার স্ত্রী ছেলের বউকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সেই রাগে শরিফ, রাকিব ও আসাদুলরা এসে হামলা চালায়। এতে আমার স্ত্রী আহত হয়ে আজ হাসপাতালে মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।’
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী সাইদুল রহমান অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে ভাতিজারা রাবেয়াকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, চিকিৎসক রাবেয়ার মাথায় ১৪টি সেলাই দিয়েছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের স্বজনেরা। রাকিবুলের স্ত্রী আর্জিনা খাতুন ও শরিফের স্ত্রী কাজলী খাতুন বলেন, তালাক দেওয়া বউকে কাউকে না জানিয়ে ঘরে তোলায় তাঁদের স্বামীরা বিষয়টি জানতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রাবেয়ার ছেলে ও স্বজনেরা মারধর শুরু করেন। পরে সংঘর্ষের মধ্যে কে কাকে আঘাত করেছে, তা কেউ দেখেননি। তাঁদের স্বামীরাও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন।
এদিকে রাবেয়ার মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত রাবেয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।