প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু থাকলেও, জিয়া নেই কেন—জবাবে যা বললেন জামায়াত আমির
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০০:১১ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০২:১৪
জামায়াতে ইসলামীর প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি থাকলেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি বা স্বাধীনতা ঘোষণার প্রসঙ্গ কেন নেই- প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। জবাবে জামায়াতে বলেছে, জিয়াউর রহমান স্বৈরাচার নন বলেই, ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নানা পর্বে স্বৈরশাসনের ইতিহাসে তাঁর ছবি রাখা হয়নি।
গত ৫ আগস্ট রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন প্রাঙ্গনে ‘জুলাই এখনো শেষ নাই’ শীর্ষক এই স্থিরচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। যা শেষ হয় শনিবার রাতে। এতে জুলাই শহীদদের ছবি, চিঠি রয়েছে। স্বৈরাশসক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, শেখ মুজিবুর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও শেখ হাসিনাকে। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করলেও জামায়াতের এই প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধ অংশে রাখা হয়েছে ৭ মার্চের ভাষণের ছবি। এরপর রয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের ছবি। এই অংশে জেনারেল নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন, বাংলাদেশিদের ওপর হানাদার বাহিনীর আক্রমণ এবং সর্বশেষ বিজয় অর্জনের চিত্র উঠে এসেছে।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালকে ‘একনায়কতন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীতে। শেখ মুজিবের শাসনামলে দুর্ভিক্ষ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কায়েমের ছবি রয়েছে। এরপর ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালকে সামরিক স্বৈরশাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে রয়েছে, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের বর্তমান নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার তথ্য ও ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এই অংশে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরশাসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার জামায়াতের চিত্র প্রদর্শনী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র এবং জুলাই আন্দোলনের ছবি রয়েছে; কিন্তু সেখানে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, কথা বা পোস্টার রাখা হয়নি। বিষয়টি খুবই রহস্যজনক।
এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বক্তব্যের জবাবে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই কেন? জিয়াউর রহমান স্বৈরাচারী শাসক ছিলেন না। এই জন্য তাঁর শাসনামল প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, জুলুমবাজ ছিল, আমরা তাদের এখানে তুলে এনেছি। এখানে দেখবেন আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান সবাই আছে; কিন্তু কেউ বাদ পড়েনি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে আনা হয়েছে।’
প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সরকারের সফলতা দেখানোর জন্য এই আয়োজন করা হয়নি। যুগে যুগে যারা স্বৈরাচারী ছিল, তাদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জনগণ তখন কীভাবে নিগৃহীত হয়েছিল, সেটা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের জনগণ, শহীদ ও শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা তুলে ধরাই ছিল এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।
১৯৪৭ সালে দেশভাগ থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন অংশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’। এই অংশে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানকে একনায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষভাগে রয়েছে ‘ফ্যাসিবাদ’। এই অংশে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতা গ্রহণ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বিএনপি
- জামায়াতে ইসলামী
- আওয়ামী লীগ