ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিক্ষোভের মুখে ফিরে গেলেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা

বিক্ষোভের মুখে ফিরে গেলেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা
×

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৭ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধির অংশগ্রহণ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট অধিবেশন। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির বিক্ষোভের মুখে ‘নিরাপত্তার অভাবে’ ২০ শিক্ষক ক্যাম্পাসে এসেও অধিবেশনে যোগ দেননি।   

উপাচার্যের সভাকক্ষে গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অধিবেশন চলে। এতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। চবি সিনেট ১০২ সদস্যের মধ্যে মৃত্যুবরণ করা ও অবসরে যাওয়া সদস্যসংখ্যা ৪২। অবশিষ্ট ৬০ জনের মধ্যে মাত্র ২৯ জন অধিবেশনে যোগ দেন। তাদের মধ্যে ২৫ জন সরাসরি এবং চারজন জুমে যুক্ত ছিলেন।   

সিনেট অধিবেশন ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতিবাচক ভূমিকার অভিযোগ এনে আওয়ামীপন্থি আট শিক্ষককে অধিবেশনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে বিক্ষোভ করছিলেন ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। 

সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শাখা ছাত্রদল। ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা সিনেটে হবে না, স্বৈরাচারের ঠিকানা সিনেটে হবে না’ এমন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। একই সময়ে চাকসুর পক্ষ থেকেও সিনেট অধিবেশন প্রত্যাখ্যান করে ১৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন হল সংসদের নেতারাও সিনেট অধিবেশন ও মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ বর্জনের ঘোষণা দেন। 

অধিবেশন শুরুর আগে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিদের ২০ জন ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের কেউ অধিবেশনে যোগ না দিয়েই ফিরে যান। এ ছাড়া তিনজন ব্যক্তিগত কাজে সিনেট অধিবেশনে অংশ নেননি। এই ২৩ জনের বেশির ভাগই আওয়ামী ও বামপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বা হলুদ দলের রাজনীতিতে যুক্ত।

চবির সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিরা সবাই একসঙ্গে সিনেট সভায় যোগ দিতে চেয়েছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকজনকে সভায় আসার কথা বলা হলেও তারা সব প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলেন। পরে সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে অনলাইনে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। 
মনিরুল হাসান বলেন, ‘আমরা ২০ জন শিক্ষক ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলাম। একজন নির্বাচিত সদস্য কেন সিনেট সভায় যোগ দিতে পারবেন না, সেটিই আমাদের প্রশ্ন। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তাহীনতায় নেই। তবে সবাইকে নিয়েই তো থাকতে চাই।’

ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক মো. দানেশ মিয়া বলেন, ‘সিনেট কর্তৃপক্ষ আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এ কারণে আমরা প্রায় ২০ জন শিক্ষক সিনেট অধিবেশনে অংশ নিইনি। ২০১৫ সালের সিনেট নির্বাচনে নির্বাচিত শিক্ষকদের সবাই এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত।’

সিনেট অধিবেশনে কোরাম পূর্ণ হয়নি উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনেট সদস্য সমকালকে বলেন, ‘আমি তো দীর্ঘদিন ধরে সিনেটে আছি। সর্বনিম্ন ৩০ জন উপস্থিত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী কোরাম স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। আজকে সভায় যদি ৩০ জনের কম উপস্থিত থাকে তাহলে কোরাম সম্পূর্ণ হয়নি।’

তবে অধিবেশন শেষে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, আট শিক্ষককে নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর আপত্তির বিষয়টি প্রশাসন জানত। এর পরও তাদের সবাইকে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অধিবেশনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তারও কোনো ঘাটতি ছিল না। তবুও তারা অংশ নেননি। সিনেটের অধিবেশনে বাজেট, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। উপাচার্য জানান, ১৭ জন সদস্য বাজেট, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের বক্তব্যের ওপর আলোচনা করেন। পাঁচজন সংসদ সদস্যও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। কোরাম পূর্ণ হয়েছে।

৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বাজেট প্রস্তাব
সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জনবলসহ ৫০ শয্যার আধুনিক মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। বাজেটে একাডেমিক, অবকাঠামো, গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পে ৬৭ কোটি ৭৩ লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী কমপ্লেক্স (টিএসসি) নির্মাণে ১৪ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। গবেষণা খাতে ইউজিসির চাহিদা অনুযায়ী পৃথক বরাদ্দ, নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণ না করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং উন্নয়ন ও বাজেট প্রাপ্তিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন অধিবেশনে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা।

আরও পড়ুন

×