অলংকার বন্ধক রেখে কিস্তির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মরিয়ম, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু
প্রতীকি ছবি
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:২১
স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে কিস্তির টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে মরিয়ম বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত ১১টার দিকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত মরিয়ম বেগম কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বাওয়াল এলাকার মুন্সিবাড়ির মাহবুব আলমের স্ত্রী এবং বাজিতপুর উপজেলার আইনারগ্রুপ এলাকার আব্দুল আলীর মেয়ে।
রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে আখাউড়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছিল। এ সময় প্ল্যাটফর্মের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মরিয়ম বেগম চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনে পড়ে যান। এতে তার একটি পা ঘটনাস্থলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয়রা ভৈরব থানা পুলিশের সহায়তায় গুরুতর আহত মরিয়মকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার সময় মৃত্যু হয় তার।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মমিনুর রহমান রবিন বলেন, হাসপাতালে আনার পরও মরিয়ম বেগম জীবিত ছিলেন। তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
নিহতের স্বজনরা জানান, মরিয়মের পাঁচটি ছোট সন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক। প্রায় ১৫ দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী আহত হন এবং সিএনজিটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়ি মেরামতের জন্য পরিবারের স্বর্ণালংকার বিক্রি করা হয়। এরপর সংসারের প্রয়োজন মেটাতে কিছু টাকা কিস্তিতে নেওয়া হয়।
রোববার কিস্তির টাকা পরিশোধের কথা ছিল। টাকা পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের কিছুটা ঘাটতি থাকায় মরিয়ম শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরবে স্বজনের বাসায় আসেন। পরে স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে কিশোরগঞ্জে ফেরার জন্য ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে যান।
নিহতের ছোট বোনজামাই আমির হোসেন বলেন, মরিয়মকে তিনি রিকশায় করে রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই খবর আসে, তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে আহত হয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে হয়।
স্টেশনের ডোম রুবেল মিয়া জানান, ভৈরব থানা পুলিশ স্টেশনের একটি দোকানে অভিযান চালাচ্ছিল। অভিযান দেখতে প্ল্যাটফর্মে মানুষের ভিড় হয়েছিল। মরিয়মও সেই ভিড়ের মধ্যে প্ল্যাটফর্মের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিতাস কমিউটার ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় তিনি ট্রেনের ধাক্কায় নিচে পড়ে যান। মরিয়মের কাছ থেকে ৬ হাজার ৬০ টাকা পাওয়া গেছে। তার মুঠোফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- ট্রেনে কাটা
- নারীর মৃত্যু
- পুলিশ
- কিশোরগঞ্জ