ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও শিশুর ৩ মৃত্যু, প্রাণ হারাচ্ছেন প্রাপ্তবয়ষ্করাও

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও শিশুর ৩ মৃত্যু, প্রাণ হারাচ্ছেন প্রাপ্তবয়ষ্করাও
×

প্রতীকী ছবি

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৩৩ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৩৩

হামের প্রাদুর্ভাব সিলেট বিভাগজুড়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে। শিশুর পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো অঞ্চলে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশু ও এক তরুণী রয়েছেন। এর আগে, গত ২ জুন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২২ বছর বয়সি এক শিক্ষানবিশ নার্স। সব মিলিয়ে চলতি বছর বিভাগে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে। 

আজ রোববার সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকার সাড়ে তিন বছর বয়সি এক শিশু সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকার আট মাস বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয় শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে। এ ছাড়া হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকার ১৮ বছর বযসী এক তরুণীর মৃত্যু হয় হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে। এর আগে, ২ জুন শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা ও শিক্ষানবিশ নার্স জেসমিন সুলতানা (২২)।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট ৮২৭ জন নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। জেলাভিত্তিক আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সুনামগঞ্জ ৩৫১ জন। এ ছাড়া সিলেটে ২৭১ জন, হবিগঞ্জে ১০৩ জন (দু’জন রুবেলা আক্রান্ত) এবং মৌলভীবাজারে ১০২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫২, সিলেটে ৪৪, হবিগঞ্জে ১৬ জন ও মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।

বর্তমানে পুরো বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন ২৭১ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১২১ জন চিকিৎসাধীন শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে। এ ছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪১ জোন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জোন ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯১ জন।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির হার এখনো উদ্বেগজনক। এ কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×