ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ, ভোগান্তিতে গৃহিণী-চালকরা

গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ, ভোগান্তিতে গৃহিণী-চালকরা
×

বেগমগঞ্জের কেন্দুরভাগে গ্যাসের লাইনে কাজ করছেন কর্মীরা। শনিবার রাতে। ছবি: সমকাল

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১০:০২

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরভাগ এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজের কারণে গত শুক্রবার রাত ৯টার পর থেকে লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে আবাসিক গ্রাহকসহ সিএনজি গাড়ি ও অটোরিকশা চালকরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে গ্রাহকদের দুর্ভোগ লাঘবে লিকেজ মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের আশা, গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পাবেন।

গ্যাস সংকটের কারণে জেলার প্রায় ৫ হাজার বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না নিয়ে বিপদে পড়েছেন গৃহিণীরা। লক্ষ্মীপুর পৌরশহরের মদিন উল্লাহ হাউজিং এলাকার গৃহিণী রেহানা আক্তার বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় কয়েক দিন ধরে চুলা জ্বালাতে পারছি না। পরিবারের জন্য সময়মতো রান্না করতে পারছি না। কখনও বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার শুরু করেছি। এতে সংসারের খরচ বেড়ে গেছে।’

একই এলাকার গৃহিণী শাহিদা বেগম বলেন, ‘সকালে বাচ্চাদের নাশতা তৈরি করতে হয়, দুপুরে রান্না করতে হয়। কিন্তু চুলায় গ্যাস নেই। আমাদের মতো পরিবারের বেশি কষ্ট হচ্ছে।’

শহরের আবাসিক গ্রাহক মো. জাকির হোসেন জানান, বেশ কিছু দিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম ছিল। এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি কিনতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা মোছা. নাসরিন আক্তারের ভাষ্য, গ্যাসের জন্য আগে থেকেই কষ্ট ছিল। এখন একেবারেই নেই। একদিকে বাজারের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে গ্যাসের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। 

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকেরাও। জেলার তিনটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না থাকায় তাদের দূরবর্তী এলাকা থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।

অটোরিকশাচালক মো. রুবেল হোসেন বলেন, ‘গ্যাস নিতে দূরে যেতে হচ্ছে। সেখানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। গ্যাস সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত টাকা লাগে, আবার গাড়ি নিয়ে রাস্তায় থাকার সময়ও বেড়ে যায়। দিন শেষে আয় অনেক কমে যাচ্ছে।’

রেক চালক মো. সোহেল রানা জানান, গ্যাসের জন্য দিনে কয়েক ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। আগে যে পরিমাণ ট্রিপ দিতে পারতেন, এখন সেটা পারছেন না। গ্যাস না থাকায় যাত্রী নিয়ে বের হয়েও চিন্তায় থাকতে হয় কখন গ্যাস শেষ হয়ে যায়। এতে তাদের দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারণে অটোরিকশাচালকদের কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। চালকদের বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপ যাত্রীদের ওপর পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

শহরের যাত্রী মো. কামাল হোসেন জানান, আগে যে ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতেন, এখন তার চেয়ে বেশি ভাড়া দাবি করছেন চালকেরা। গ্যাস সংকটের কারণে তাদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অথচ সাধারণ মানুষের বাড়েনি। আরেক যাত্রী সুমাইয়া আক্তারের ভাষ্য, গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে কম, আর পেলেও বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। জরুরি কাজে গিয়ে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

লক্ষ্মীপুর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী প্রকৌশলী মো. খোরশেদ আলম জানান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরভাগের পশ্চিমে একটি সেতুর নিচে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখে মেরামতের কাজ চলছে। পাইপলাইনটি পানির নিচে থাকায় মেরামতের কাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।  মেরামতের কাজ শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) ও স্থাপনা প্রধান অতুল কুমার নাগ বলেন, লিকেজ মেরামতের কাজ অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। ৯ আগস্ট সন্ধ্যার পর থেকে গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।

আরও পড়ুন

×