ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমালোচনার মুখে একাত্তর ও চব্বিশ চিত্রকর্মটি সরিয়ে নিল রাবি

সমালোচনার মুখে একাত্তর ও চব্বিশ চিত্রকর্মটি সরিয়ে নিল রাবি
×

ছবি: সমকাল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৩০ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৩৮

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে একটি চিত্রকর্ম নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচনার মুখে সোমবার দুপুরে চিত্রকর্মটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চিত্রকর্মটিতে দেখা যায়, একটি হাতের মুষ্টি দাঁড়িপাল্লা ধরে আছে। পাল্লার এক পাশে লাল রঙে ‘৭১’ এবং অপর পাশে কালচে রঙে ‘২৪’ লেখা। ‘২৪’ লেখা পাল্লাটি কিছুটা নিচের দিকে ঝুলে থাকায় চিত্রকর্মটিতে ১৯৭১ সালের তুলনায় ২০২৪ সালকে বেশি ভারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সোমবার দুপুরে চিত্রকর্মটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি সরিয়ে নেয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রদর্শনীর জন্য চিত্রকর্মগুলো যথাযথভাবে যাচাই না করেই উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে চিত্রকর্মটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে রোববার সকাল থেকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। প্রদর্শনীতে মোট ৮০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।
চিত্রকর্মটি নিয়ে সমালোচনা করে রাবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রবণতা জনগণের ঐক্য নষ্ট করে। এতে কেবল পরাজিত শক্তিগুলোরই লাভ হয়।’

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘১৯৭১ আমাদের মূল ইতিহাস। ২০২৪ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও ১৯৭১-কে খাটো করে ২০২৪ বড় হয় না। একটি ইতিহাসকে প্রতিষ্ঠা করতে আরেকটি ইতিহাসকে অপমান করার প্রয়োজন নেই।’

রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘একাত্তর ও চব্বিশ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ঘটনা। আমরা দুটিকে মুখোমুখি করতে চাই না; বরং উভয়ের প্রেরণাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই।’

তবে সমালোচিত চিত্রকর্মটির শিল্পী এটিকে আলংকারিক উপস্থাপন হিসেবে দাবি করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শিল্পী বলেন, ‘জুলাইয়ের পর থেকেই একটি গোষ্ঠী চব্বিশকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে আসছে। আমার কাজটিকে সে অর্থে দেখা ঠিক হবে না; এটি আলংকারিক উপস্থাপন। আমি মূলত একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশের এই অসম তুলনাটিকে বোঝাতে চেয়েছি।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে চারুকলা অনুষদের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

চিত্রকর্মগুলো যাচাই না করেই প্রদর্শনীতে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান দায়িত্বে থাকা চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডিন স্যারের অনুপস্থিতিতে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। সত্যি বলতে, আমি শুধু একটি চিঠিতে সই করেছি। ছবিগুলো যাচাই না করেই পাঠানো হয়েছে।’

চিত্রকর্মটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে আমরা চিত্রকর্মটি সরিয়ে নিয়েছি। প্রদর্শনীর ব্যবস্থাপনায় ছিল চারুকলা অনুষদ। আমরা তাদের কাছে চিত্রকর্মটির ব্যাখ্যা জানতে চাইব।’

আরও পড়ুন

×