ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

সিলেট শিক্ষা বোর্ড

সিসি ক্যামেরা, প্রস্তুতির ঘাটতি ও মোবাইলমুখিতায় ফল বিপর্যয়

সিসি ক্যামেরা, প্রস্তুতির ঘাটতি ও মোবাইলমুখিতায় ফল বিপর্যয়
×

মুকিত রহমানী, সিলেট

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ বছর তা ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ; যা আগের চেয়ে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ কম। 

সিলেট এবারের পরীক্ষায় মানবিকের ফলাফলে বড় ধস নেমেছে। যদিও প্রতিবছর এ বিভাগের ফল অন্যান্য বিভাগ থেকে তুলনামূলক খারাপ হয়। এবার মানবিকে পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশে। 

এ দিকে সিলেটে ফল বিপর্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। চলছে বিশ্লেষণ। সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কারণেই এবার পাসের হার কমেছে। শিক্ষার্থীরা ‘ক্লিন ও ক্লিয়ার’ পরীক্ষা দিয়েছে। তিনি জানান, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল। তারাই বেশি ফেল করেছে। 

সিলেট বোর্ডের অধীন এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ জন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিল ৭০ হাজার ৯১ জন। এবার পাসের হার কমলেও জিপিএ ৫ বেড়েছে। গত বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। এবার পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। 
বোর্ডের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম। ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৭৬ দশমিক শূন্য ৬, ২০২৪ সালে ৭৩ দশমিক ৩৫, ২০২৫ সালে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ বছর পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে।

চলতি বছরে বিজ্ঞান বিভাগে মোট পাসের হার ৮০ দশমিক ৩২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ ও মানবিক বিভাগে ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। মানবিক বিভাগ থেকে এবার ৫৭ হাজার ৭৬০ জন অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৫ জন। 
শিক্ষা বোর্ডের নবাগত চেয়ারম্যান অধ্যাপক শহীদুল আলম জানান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতিসহ কিছু কারণে আশানুরূপ ফল হয়নি। ভালো ফল না হওয়ার কারণগুলো তারা খোঁজার চেষ্টা করছেন। শিক্ষকরা ছাত্রদের মোবাইলমুখিতাসহ বিভিন্ন কারণ দেখছেন।  

দুই ক্ষেত্রে এগিয়ে মেয়েরা 
এবারে পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তি দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশের মধ্যে মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।  ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ। ৩ হাজার ৮৩৬টি জিপিএ ৫ এর মধ্যে মেয়েরা পেয়েছে ২ হাজার ৯১টি আর ছেলেরা পেয়েছে ১ হাজার ৭৪৫টি।

শতভাগ পাস ৯টি প্রতিষ্ঠান 
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবার অংশ নেয় ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে শতভাগ পাস করেছে ৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল, সিলেট সদরের জালালাবাদ বোর্ড ক্যান্টনমেন্ট হাইস্কুল, সিলেট ক্যাডেট কলেজ, সিলেট নগরীর স্কলার্সহোম ও স্কলার্সহোম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কমলগঞ্জের বিএএফ শাহীন কলেজ শমশের নগর, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ছাতকের ব্রিজ একাডেমি। শূন্য পাস কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। 
নগরীর পাঠানটুলা দ্বি-পাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা আজকাল পড়ার চেয়ে বেশি মোবাইলমুখী হয়ে পড়েছে। স্কুলে একজন শিক্ষার্থী থাকে ছয় ঘণ্টা। বাকি সময় সে বাসায় থাকে। সে ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে শাসন কমে যাওয়াকেও দায়ী করেন তিনি।
 

আরও পড়ুন

×