ফুটপাতঘেঁষে ২৬ দোকান নির্মাণ
রংপুরের মিঠাপুকুরে মহাসড়কের জায়গা দখল করে ২৬টি দোকান নির্মাণের কাজ চলছে। সম্প্রতি তোলা সমকাল
হাবিবুর রহমান সোনা, মিঠাপুকুর (রংপুর)
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের মিঠাপুকুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রধান প্রবেশদ্বার-সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাতঘেঁষে ২৬টি সেমিপাকা দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, নির্মাণকাজ শুরুর আগে কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি। তারা বলছেন, মহাসড়কের সংরক্ষিত এলাকা ও ফুটপাতের সীমা নির্ধারণ করে দ্রুত বিষয়টি পরিষ্কার করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের জটিলতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের প্রাচীরঘেঁষা মহাসড়কের পাশে নতুন করে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ওই এলাকায় থাকা চারটি আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগে থেকে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে নতুন দোকানঘর নির্মাণ শুরু হয়।
জানতে চাইলে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নিয়ম না মেনে কোনো উন্নয়ন কাজ করা ঠিক না। তবে কাজটির সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা আছে। তিনি কীভাবে কাজ করাচ্ছেন তা জানি না। তাই, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’
যা বলছেন ব্যবসায়ীরা
২০১৯ সালে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় উপজেলা পরিষদ নির্মিত শাপলা মার্কেট উচ্ছেদ করা হয়। ওই মার্কেটের ৩১ জন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়নি।
ব্যবসায়ী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমরা উপজেলা পরিষদের নির্ধারিত ফি দিয়ে শাপলা মার্কেটে ব্যবসা করতাম। মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার সময় মার্কেট ভেঙে ফেলা হয়। এখন একই জায়গায় নতুন করে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে, অথচ আমাদের পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। সামনে ফুটপাত থাকায় পথচারীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে।’
আরেক ব্যবসায়ী মাহফুজার রহমান বলেন, ‘মার্কেট নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা চোখে পড়ছে না। দোকানগুলো রাস্তার সংরক্ষিত জায়গার খুব কাছাকাছি করা হচ্ছে।’ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যে জায়গায় দোকান হচ্ছে, সেটি মহাসড়কের অংশ বলেই আমরা জানি। বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার।’
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের পাশেই নির্মাণসামগ্রী ফেলে কাজ চলছে। দোকানঘরগুলোর অবস্থান মহাসড়কের খুব কাছাকাছি হওয়ায় পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
কৃষ্ণপুর গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, ‘ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে যদি দোকান বসে যায়, তাহলে পথচারীদের রাস্তা দিয়ে চলতে হবে। এতে দুর্ঘটনা ও যানজট দুটোরই আশঙ্কা বাড়বে।’
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে মানুষ চলাচলের জায়গা দখল করা হয়নি। সাসেক প্রকল্প যে ফুটপাত নির্মাণ করেছে, তার ওপর কোনো কাজ করা হচ্ছে না। ফুটপাত ছেড়ে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব হলরুম-সংলগ্ন জায়গায় অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে।’
নির্মাণকাজ শুরুর আগে কোনো দরপত্র আহ্বান না করার কারণ জানতে চাইলে প্রশাসনের এই কর্মকর্তা বলেন, এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উন্মুক্ত ফোরামের সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি কমিটি করা হয়েছে। রেজুলেশনও হয়েছে।
মার্কেট নির্মাণ প্রকল্প কমিটির সভাপতি উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে আর কাকে রাখা হয়েছে জানি না। কাজ চলছে। আমি দেখাশোনা করছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’
রংপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের হলরুমের তিন ভাগের এক ভাগ চারলেন মহাসড়কে পড়েছে। সেই স্থানে সীমানা পিলারও দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সড়কের সংরক্ষিত জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা আইনসম্মত নয়। বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- দোকান