ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

ফল খারাপ হওয়ায় শিক্ষকদের ছয় ঘণ্টা তালাবদ্ধ রেখে বিক্ষোভ

ফল খারাপ হওয়ায় শিক্ষকদের ছয় ঘণ্টা তালাবদ্ধ রেখে বিক্ষোভ
×

রামেরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গতকাল সোমবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সমকাল

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

শেরপুর সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় খারাপ ফল হওয়ায় বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকসহ ১৩ শিক্ষক ও পাঁচ কর্মচারীকে প্রায় ৬ ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে মধ্যস্থতা করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাদের ছাড়াতে সক্ষম হয়। সদর উপজেলার বলায়েরচর ইউনিয়নের রামেরচর উচ্চ বিদ্যালয়ে গতকাল সোমবার দুপুরের পর এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় কৃর্তপক্ষ জানায়, চলতি বছর বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় ৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করে মাত্র ২০ জন। একজনও জিপিএ ৫ পায়নি। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, এ বিদ্যালয়ের প্রকৃত পরীক্ষার্থী ছিল ২০ জন। তাদের কেউ পাস করেনি। যারা পাস করেছে তারা অন্য বিদ্যালয়ের। এ স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষা দিয়েছিল।
দুপুরে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীসহ শতাধিক ব্যক্তি এসে নিম্নমানের লেখাপড়া, অনভিজ্ঞ শিক্ষক ও তাদের গাফিলতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষকসহ ১৮ জনকে আটকে তালা লাগিয়ে দেন।

বিক্ষোভের সময় বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, ২০ জন পরীক্ষা দিয়েছিল একজনও পাস করেনি। বড় বড় প্রাইভেট স্কুলে যারা পড়ে তাদের এখান থেকে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। তাদের পাস দেখিয়ে বেতন তুলে খাচ্ছেন শিক্ষকরা। অভিভাবক শিক্ষার্থীরা তাদের তালাবদ্ধ করে রেখেছে। বিগত দুই বছর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়াননি, কিন্তু বেতন নিয়েছেন। তাই ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের ছাড়া হবে না। বিনা খরচে ফরম ফিলাপসহ লেখাপড়া করিয়ে পাস করানোর দায়িত্ব নিলে তাদের ছাড়া হবে। উপস্থিত অভিভাবকরা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল আওয়াল বলেন, ২০২৫ সালে রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পর অভিভাবকরা শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে পড়াতে বলেন। কিন্তু তাঁরা তা করেননি। অনেক ছাত্র তখন ঝরে পড়েছে এবং বাধ্য হয়ে অনেকে অন্য স্কুলে গিয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। এবারও একই অবস্থা হওয়ায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম বলেন, গ্রামের স্কুল। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে চায় না। আমরা কী করতে পারি! মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তিনামা দেওয়ার পর তাঁরা ছাড়া পেয়েছেন। চুক্তির মধ্যে রয়েছে ফেল করা সব শিক্ষার্থীকে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের খরচ শিক্ষকরা বহন করবেন। ২০২৭ সালে এএসসি পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করবে তাদের ফরম পূরণের টাকাও শিক্ষকরা দেবেন। তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ বিদ্যালয়ের জমি দখল করার চেষ্টা করছেন। সুযোগ পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে লোকজনকে উস্কে দিয়েছেন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান বলেন, প্রধান শিক্ষক ফোন দিয়েছিলেন। পরে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে থানায় জানানোর পরে তাঁরা ব্যবস্থা নেন। শেরপুর সদর ইউএনও আসমা বিনতে রফিক বলেন, পুলিশ গিয়ে মিটমাট করেছে। শিক্ষকরা সবাই বাড়ি গেছেন। শিক্ষার্থীরা বেশির ভাগ ইংরেজিতে ফেল করেছে। প্রধান শিক্ষক সম্ভবত তাদের দায়িত্ব নিয়েছেন।
 

আরও পড়ুন

×