ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

ছেলেকে চিকিৎসক-মেয়েকে নার্স বানানোর পর বাবার এসএসসি পাস

ছেলেকে চিকিৎসক-মেয়েকে নার্স বানানোর পর বাবার এসএসসি পাস
×

আলী আকবর

নাটোর সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:০৬ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৩১

ছেলেকে চিকিৎসক ও মেয়েকে নার্স বানানোর পর ৫৪ বছর বয়সে নিজের এসএসসি পরীক্ষার স্বপ্ন পূরণ করেছেন আলী আকবর। রাজশাহীর নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি উচ্চবিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স ট্রেড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪ দশমিক ৩৫ পেয়েছেন তিনি।

আলী আকবর নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার পেড়াবাড়িয়া মহল্লার মোল্লা শেখ খোকার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি আলী আজম নামে পরিচিত। রাজশাহীতে চাকরির সুবাদে নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি উচ্চবিদ্যালয়ের কারিগরি শাখায় ভর্তি হন। এরপর ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি।

জীবনের বড় একটি সময় সংসারের অভাব-অনটন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার সংগ্রামে কেটেছে আলী আকবরের। নিজের পড়াশোনার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আবার জেগে ওঠে তাঁর সেই পুরোনো স্বপ্ন।

আলী আকবর জানান, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। কয়েক ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। সংসারের অভাবের কারণে ছোটবেলাতেই লেখাপড়া ছেড়ে বাবার সঙ্গে পরিবারের হাল ধরতে হয় তাঁকে। পরে বিয়ে করেন। সংসারে আসে এক ছেলে ও এক মেয়ে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে তাঁকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। একপর্যায়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে কর্মচারী হিসেবে চাকরি নেন আলী আকবর। স্বামী-স্ত্রীর উপার্জনের অর্থ দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যান। এক সময় ছেলে-মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিজের পড়াশোনার ইচ্ছেটা বিসর্জন দেন তিনি।

আলী আকবর বলেন, ‘সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজের পড়াশোনার ইচ্ছেটাকে বিসর্জন দিয়েছিলাম। মেয়েকে নার্স ও ছেলেকে ডাক্তার বানিয়েছি। এখন তারা নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। এরপর নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য আবার পড়াশোনা শুরু করি।’

তিনি বলেন, ‘নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি উচ্চবিদ্যালয়ের কারিগরি শাখায় ভর্তি হয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিই। জিপিএ ৪ দশমিক ৩৫ পেয়ে পাস করায় আমার একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

আলী আকবরের ছেলে চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন বলেন, বাবার পড়াশোনার প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। কিন্তু পরিবার ও সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার কারণে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছিলেন। বাবার সেই স্বপ্নের কথা তাঁরা জানতেন। তাই তাঁকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। এবার তিনি এসএসসি পাস করেছেন। সামনে তাঁকে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করানোর ইচ্ছা রয়েছে।

পেড়াবাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা আবু হেনা কামরুজ্জামান বলেন, আলী আকবরের এসএসসি পাসের ঘটনা তাঁদের জন্য গর্বের। এই বয়সে এসে পড়াশোনা করে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়া তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি, মনোবল ও অধ্যবসায়ের প্রমাণ।

নাটোর সিটি কলেজের আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহীদুল হক সরকার বলেন, আলী আকবরের এই অর্জন সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ। যারা বিভিন্ন কারণে পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গেছেন, তাঁর সাফল্য তাঁদের নতুন করে শিক্ষা গ্রহণে অনুপ্রেরণা দেবে।

 

 

আরও পড়ুন

×