ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪৯১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ তিন বছরেও শুরু হয়নি

খুলনা সিটি করপোরেশন উন্নয়ন

৪৯১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ তিন বছরেও শুরু হয়নি
×

 হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৯ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার উন্নয়নের জন্য ৪৯১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ সাড়ে তিন বছরেও শুরু হয়নি। এ কারণে এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। সিটি করপোরেশন এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অনুদানের প্রস্তাব দেয় জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ)। এর ওপর ভিত্তি করে ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদন হয় ৪৯১ কোটি টাকার প্রকল্প। 

প্রকল্পের আওতায় নগরীর নিরালা, বাস্তুহারা ও দেয়ানা চৌধুরী খাল খনন ও পাড় বাঁধাই, দুটি খালে ড্রেন নির্মাণ, দৌলতপুরে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নগরীর বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য লবণচরায় পাম্প হাউস নির্মাণ এবং ২৩টি পুকুর সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৩ সালে শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সাড়ে তিন বছর পরও প্রকল্পের কোনো কাজ শুরু হয়নি। এতে ব্যয় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সময়মতো কাজ শুরু না হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে ওইসব এলাকার মানুষের। বিশেষ করে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অনুপযোগী।

নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তিন বছর ধরে শুনছি রাস্তার কাজ হবে। অথচ প্রতিদিন আমাদের ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।’

এ ছাড়া রূপসা ও ভৈরব নদের ভাঙন থেকে খুলনা শহরকে রক্ষা করতে দৌলতপুর এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং মহেশ্বরপাশা শ্মশানঘাট এলাকায় নতুন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। দরপত্র প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। 

নগরীর প্রাকৃতিক জলাধারগুলো টিকিয়ে রাখতে ২২টি পুকুর সংস্কারের পরিকল্পনা ছিল প্রকল্পে। অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সেটি ১৭টিতে নেমে এসেছে। প্রকল্প দীর্ঘায়িত হলে এ সংখ্যা আরও কমবে।

প্রকল্পের প্রথম প্যাকেজ হিসেবে সোনাডাঙ্গা বাইপাস রোডের মাত্র ৪০০ মিটার পুনর্নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে কেসিসি। সেখানে আটজন ঠিকাদার দরপত্র জমা দেন। কিন্তু শর্ত পূরণ না করায় সবগুলোই বাতিল হয়ে যায়। 

কেসিসি থেকে জানা গেছে, ‘কেসিসি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলা ও শহর এলাকার উন্নয়ন (ফেজ-২)’ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ অর্থাৎ ৩১২ কোটি টাকা দেবে কেএফডব্লিউ। ৩৬ শতাংশ হিসেবে ১৭৮ কোটি টাকা দেবে সরকার এবং এক কোটি টাকা কেসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক আবিরুল জব্বার সমকালকে জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের কারণে ২০২৪ সালে নকশা তৈরির দায়িত্বে থাকা বিদেশি পরামর্শকরা চলে যান। সাত-আট মাস কাজ বন্ধ ছিল। রাজনৈতিক সরকার না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, আলুতলা ও লবণচরা পাম্প স্টেশনের জমি ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। ওই জমি ব্যবহারের অনুমতি নিতেই দুই বছর সময় লেগেছে। এ ছাড়া দাতা সংস্থা শর্ত অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের পর পুনর্বাসন পরিকল্পনা ও চুক্তি, পরিবেশগত ছাড়পত্র, কর্মপরিকল্পনা, সামাজিক প্রভাবের প্রতিবেদন নিতে হয়েছে। প্রতিটি কাজে দীর্ঘ সময় লেগেছে। তবে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, দুই বছরের প্রচেষ্টায় লবণচরা স্লুইসগেটের পাশে দুই একর জমি বুঝিয়ে দিয়েছে পাউবো। কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে, ওই জমি অন্যদের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এই জটিলতা দূর না করে সেখানে কাজ করার উপায় নেই। এ ছাড়া শহর রক্ষা বাঁধে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। দাতা সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী পুনবার্সন না করে তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। তাদের পুনর্বাসনে লম্বা সময় লাগছে। এসব কারণে প্রকল্পের ভৌত কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। 

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘দাতা সংস্থার শর্ত বা জমি নিয়ে নানা জটিলতা প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সমাধান করা উচিত ছিল।

আরও পড়ুন

×