ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি

নাটোরে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর

নাটোরে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর
×

 নাটোর সংবাদদাতা ও লালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গতকাল বুধবার নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া লালপুরে বিক্ষোভ হয়েছে এবং ইউএনওকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। 

দুই উপজেলায় নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠেছে। অভিযোগ করা হয়, নিয়োগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বলেছে, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। তবে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিক্ষোভের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হন সাংবাদিকরা।

বাগাতিপাড়া উপজেলায় কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তারা ফল বাতিলের দাবিতে গতকাল বুধবার ইউএনও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কক্ষের দরজা ও জানালায় লাথি দেন এবং ফুলের টব ভেঙে ফেলেন। 
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের সুযোগ করে দিয়েছেন। 

এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে এসে লাঞ্ছনার শিকার স্টার নিউজ টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি তারিকুল হাসান বলেন, বিক্ষোভের লাইভ সম্প্রচারের সময় তাঁকে ধাক্কা দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লাঞ্ছিত করা হয়।  
ছাত্রদলের নেতা সোহেল রানা বলেন, ‘পরীক্ষা না দিয়েও টাকার বিনিময়ে কেউ কেউ নিয়োগ পেয়েছে। বিএনপি সরকারকে বিতর্কিত করতে এমন নিয়োগ দিয়েছেন ইউএনও। কোথাও হামলা বা কাউকে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেনি।’

তবে ইউএনও দেবাশীষ বসাক বলেন, নিয়োগ স্বচ্ছতার সঙ্গে হচ্ছে। কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলা ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, সকাল থেকেই অফিসের ভেতরে থাকায় বাইরের কোনো ঘটনা তিনি জানেন না। পরিস্থিতি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
লালপুরে ইউএনও কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, ‘বর্তমান ইউএনও ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। তাদের লোকদের নিয়োগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছেন ইউএনও।’ 
লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনর রশিদ পাপ্পু বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। আজকের (গতকাল) মধ্যেই প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করতে হবে। কর্মী নিয়োগে অনিয়মের জন্য ইউএনওকে প্রত্যাহার করতে হবে।’ 

তবে ইউএনও বরকত উল্লাহ বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছে, অনিয়ম হয়েছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  
নাটোর জেলার পুলিশ সুপার শরীফুল হক জানান, উপজেলাগুলোতে হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। 
এর আগে মঙ্গলবার ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। একই অভিযোগে সুন্দরগঞ্জে ইউএনও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন

×