খুলনা উপকূলজুড়ে আতঙ্ক, আশ্রয় কেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়ছে
আশ্রয় কেন্দ্র জড়ো হয়েছে মানুষ- সমকাল
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৫:৩১ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৫:৫৭
ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'-এর কারণে খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাদের সবচেয়ে বেশি ভয় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে।
আতঙ্কের মাঝেও উপজেলার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে হিমশিম খাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা। তবে শনিবার বিকাল ৪টার পর থেকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে খুলনা জেলার ৩৪৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন দাবি করেছে, খুলনার চারটি উপজেলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে দাকোপে ৫৫ হাজার, কয়রায় ৪৫ হাজার, বটিয়াঘাটায় ১০ হাজার, পাইকগাছায় ১০ হাজার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শনিবার সকাল থেকেই খুলনায় থেমে থেমে মাঝারি আবার কখনো ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে বইছে দমকা হওয়া। জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় নদীর পানির উচ্চতা বেড়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে বিপদ কমাতে রাস্তার পাশের সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড খুলে ফেলা হয়েছে।
উপকূলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা কয়রা ও দাকোপে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারির পর থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে প্রচারণা চালানো শুরু হয়। বিকেলের পর থেকে দমকা হাওয়া বেড়ে গেলে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া শুরু করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরের পর থেকে খুলনার দাকোপ উপজেলার মানুষও আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে। বিকেল ৫টার দিকে দাকোপের চালনা বাংলাবাজার সরকারি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় সাইক্লোন শেল্টারে পাঁচ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। মোংলাবন্দরে অবস্থান করা দেশি জাহাজগুলোকে দাকোপের পশুর নদে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
কয়রা সংবাদদাতা জানান, শনিবার সকালে উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটির বহু মানুষ উৎকন্ঠা নিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। তারা আশংকা করছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানলে গ্রামের সামনের বেড়িবাঁধটি ভেঙে যাবে। এতে লোনা পানিতে পুরো এলাকা ভেসে যাবে। এ সময় দেখা যায় অনেকে দড়ি দিয়ে শক্ত করে ঘর-বাড়ি বেঁধে রাখার চেষ্টা করছেন। অনেকে গরু ছাগল নিয়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাচ্ছেন।
ওই এলাকার ষাটোর্ধ হবি শেখ বলেন, ‘দুর্যোগে ভয় পাই না, ভয় পাই বাঁধ ভাঙার। বাঁধ ভাঙলে ক্ষেতের ফসল, বাড়িঘর সব ভেসে যাবে। তখন পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।’
উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবার চোখে মুখে আতংকের ছাপ স্পষ্ট। তারা বলেন, আইলার ধকল গত ১০ বছরেও কাটাতে পারেনি। এর মধ্যে আবার যদি বাঁধ ভাঙে তাহলে এলাকা ছাড়তে হবে তাদের। তখন আর এলাকায় বসবাসের উপযোগী থাকবেনা বলে ধারণা করছেন তারা।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল কুমার সাহা বলেন, কয়রায় ১২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। মজুদ রাখা হয়েছে খাদ্য সামগ্রী। এছাড়া ১১৬টি সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবন পাকা ও নিরাপদ স্থাপনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন জানান, সকাল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশ এবং ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা লোকজনকে বুঝিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসছেন।
তিনি জানান, জেলায় মোট ৩৪৯ টি সাইক্লোন শেল্টার খুলে রাখা হয়েছে। এসব সাইক্লোন শেল্টারের ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫০ জন আশ্রয় নিতে পারবে। উপকূলবর্তী ৪টি উপজেলায় সাইক্লোন পিপাডনেস প্রোগ্রামের ২ হাজার ৪৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।