মাদক কিনে এনে না দেওয়ায় স্কুলছাত্রকে মারধর
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাঞ্ছারামপুরে মাদক কিনে এনে দিতে রাজি না হওয়ায় আল-আমীন নামে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছে দুই মাদকসেবী। ছেলেকে মারার প্রতিবাদ করায় তার বাবাকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাঞ্ছারামপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত আল-আমীন বাঞ্ছারামপুর সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবার নাম দুলাল মিয়া। তাদের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার কালাই কিশোর গ্রামে। তবে তারা বাঞ্ছারামপুর ঈদগাহ এলাকায় বসবাস করছেন।
অভিযুক্ত মাদকসেবী দুজন হলেন– বাঞ্ছারামপুর মালিপাড়ার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ইয়াসিন, বাঞ্ছারামপুর ঈদগাঁহ এলাকার ছেদু মিয়ার ছেলে রিফাত।
জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয় আল-আমীন। বাঞ্ছারামপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ এলাকায় পৌঁছালে ইয়াসিন ও রিফাত তাকে মাদক কিনে এনে দিতে বলে। স্কুল ক্লাস আছে বলে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
আল-আমীন বিষয়টি তার বাবা দুলাল মিয়াকে জানালে, তিনি অভিযুক্তদের কাছে ঘটনার কারণ জানতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদকাসক্ত ইয়াসিন ও রিফাত ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে দুলাল মিয়া ও তার ছেলে আল-আমীনকে পেটাতে থাকে।
আল-আমীনের হাত ও হাতের জয়েন্টে গুরুতর আঘাত পেয়েছে। তার বাবা দুলাল মিয়ার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা।
দুলাল মিয়া জানান, স্কুলে যাওয়ার সময় ইয়াসিন ও রিফাত তার ছেলে আল-আমীনকে মাদক কিনে এনে দিতে বলে। তার ছেলে স্কুলে যাচ্ছে বলে তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় মারধর করে। ঘটনা জানার পর কারণ জিজ্ঞেস করতে গেলে তাদের মারধর করে আহত করেছে। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত মাদকসেবীরা। বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- মারধর