পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল সড়ক খুলছে ডিসেম্বরে
পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল সড়কের কাজ ৯৭ শতাংশ শেষ। পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর অংশ চালু হবে আগামী মাসে। সম্প্রতি চরসৈয়দপুর এলাকা থেকে তোলা সমকাল
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রত ও নিরাপদ করতে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল সড়কের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড (দোতলা) সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর পর্যন্ত দ্বিতল সড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চলছে কর্মযজ্ঞ। এখন চলছে এ অংশের এক্সপানশন জয়েন্ট এবং রোড মার্কিংয়ের কাজ। মুক্তারপুর-পঞ্চবটি অংশের অবশিষ্ট কাজও দ্রত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে প্রকল্পের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান জানান, মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলাকরণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ দ্বিতল সড়ক চালু হলে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর যানবাহন চলাচল আরও সহজ ও গতিশীল হবে। দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ অবকাঠামো।
প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে যাতায়াতের সময় প্রায় ৬২ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমবে, যানবাহনের গড় গতি ৪ দশমিক ৪৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং যানজট বিলম্ব প্রায় ৭৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সঙ্গে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রত, নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ী হবে।
প্রকল্পটির ভারপ্রাপ্ত টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক জানান, এরই মধ্যে দ্বিতল সড়কের তিন কিলোমিটার পিচঢালা লেয়ার হয়ে গেছে। দ্বিতল সড়কে ওঠার জন্য র্যাম্প তৈরির কাজও চলছে। সড়ককে সোলার লাইটও স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিচ তলার কাজও চলছে।
টোল দিতে হবে ওপরতলার সড়কে
দ্বিতল সড়কটির উপরিভাগ ৩৬ ফুট প্রশস্ত ও দুইলেন বিশিষ্ট। বর্তমানে শেষ ধাপের কাজ হিসেবে টপ লেয়ার বিটুমিনাস কার্পেটিং ও রোড মার্কিংয়ের কাজ চলছে। চালু হওয়ার পর দ্বিতীয় তলায় চলাচলকারী যানবাহনকে টোল দিতে হবে। নিচতলার ৫৪ ফুট প্রশস্ত চারলেনের সড়ক টোলমুক্ত থাকবে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রস্তাবিত তালিকায় মোটরসাইকেলের টোল ২০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৫০ টাকা, প্রাইভেটকার ৮০ টাকা, মাইক্রোবাস ১০০ টাকা এবং বাস ৩০০ ও ৪০০ টাকা। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে একটি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় ১০ দশমিক ৮১৩ কিলোমিটার এট-গ্রেড (সমতল) সড়ক প্রশস্তকরণ, ৯ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার এলিভেটেড সড়ক ও র্যাম্প নির্মাণ, চারটি টোল প্লাজা, পাঁচটি ওজন স্কেল, কাশিপুর ও গোগনগর সেতু প্রশস্তকরণ, একটি আরসিসি সেতু, একটি ট্রাক স্ট্যান্ড এবং দুটি নন-মোটরাইজড যানবাহন পার্কিং নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার জহুরুল হক জানান, ২৩ জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, ১২১টি এক্সপানশন জয়েন্টের মধ্যে একটি স্থাপন করা হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ চলছে। ৫৮৬টি সোলার প্যানেলের মধ্যে ৩৪২টি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। আট হাজার ৫৬ মিটার অ্যাসফল্ট কাজের মধ্যে দুই হাজার ৭২৭ মিটার সম্পন্ন
হয়েছে। অন্যান্য কাজের মধ্যে সাত হাজার ৪০০ মিটার এইচডিপিই পাইপ স্থাপন হবে। এর মধ্যে সাত হাজার ২১৫ মিটার স্থাপন হয়েছে। আট হাজার ১১ মিটার ড্রেনেজ পাইপ স্থাপনের মধ্যে ছয় হাজার ৬২২ মিটারের কাজ শেষ হয়েছে।
এ্যাট-গ্রেড সড়কের বিভিন্ন অংশেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আট হাজার ৫৬ মিটার অ্যাসফল্ট কাজের মধ্যে দুই হাজার ৭২৭ মিটার সম্পন্ন হয়েছে। আর-৮১২ (মেইন রোড) অংশে ১৬ হাজার ৭৯২ মিটার সিসি কাজের মধ্যে ১৫ হাজার ২৮৪ মিটার এবং আরসিসি কাজের মধ্যে ১৪ হাজার ৯৪৬ মিটার সম্পন্ন হয়েছে। আর-৮১০ (চাষাড়া-ফতুল্লা) অংশে দুই হাজার ৪০০ মিটার সিসি কাজের এক হাজার ২৫৮ মিটার এবং আরসিসি কাজের এক হাজার ২৩৯ মিটার সম্পন্ন হয়েছে।
- বিষয় :
- সড়ক