চাকলা ফাজিল মাদ্রাসা
নিয়োগের আগেই সভাপতির নেতৃত্বে পদ ভাগবাটোয়ারা
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪২ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের মনিরামপুরে চাকলা ফাজিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির তিন কর্মচারী নিয়োগের আগেই মাদ্রাসার গভর্নিংবডির সভাপতির নেতৃত্বে তিনটি পদ কমিটির মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অফিস সহায়ক পদে সভাপতির ভাতিজা, আয়া পদে দাতা সদস্যের স্ত্রী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে অধ্যক্ষের কাছের লোককে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হবার পর মাদ্রাসার অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা যায়, উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের চাকলা ফাজিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির তিনটি পদে কর্মচারী নিয়োগের জন্য গত জুলাইয়ের শুরুতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রার্থীদের আবেদন জমার শেষ তারিখ ছিল গত ৭ জুলাই অফিস চলাকালীন। এ সময়ে অফিস সহায়ক পদে ৯ জন, আয়া পদে পাঁচজন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে পাঁচজন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ২৩ জুলাই বিকেলে গভর্নিংবডির সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ওলামা বিভাগের সভাপতি সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সহসভাপতি কামরুজ্জামান, দাতা সদস্য সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে ওই সভায় তিনটি পদের নিয়োগ কমিটির মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়।
কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সভায় অফিস সহায়ক পদে সভাপতি সোহরাব হোসেনের ভাতিজা মাসুম বিল্লাহ, আয়া পদে দাতা সদস্য সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মোমেনা খাতুন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদ সরদারের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে হিরা খাতুনকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। হিরা খাতুনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।
দাতা সদস্য সিরাজুল ইসলাম তাঁর স্ত্রীকে আয়া পদে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভাই এসব নিয়ে লিখে ক্ষতি করবেন না।’
এদিকে কমিটির লোকদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা প্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগ দিতে গত ৫ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ বোর্ড গঠনের জন্য অনুমতি চেয়ে মাদ্রাসা বোর্ডে আবেদন করেছেন।
স্থানীয় মোলাম গাজী, তৌহিদুর রহমানসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, গভর্নিংবডির সদস্যরা মাদ্রাসার তিনটি পদে নিয়োগ নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। তাহলে নিয়োগের নামে তারা কেন ১৯ প্রার্থীর কাছ থেকে পোস্টাল অর্ডারসহ আবেদনপত্র নিলেন।
জিসান হোসেন মুন্না নামে এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, তিনি অফিস সহায়ক পদে আবেদনপত্র ৭ জুলাই দুপুরে মাদ্রাসায় জমা দিতে গেলে অধ্যক্ষ তা গ্রহণ না করে সভাপতির কাছে পাঠান। আবার সভাপতির কাছে গেলে তিনি গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘মাদ্রাসায় বিভিন্ন পদে পরীক্ষার মাধ্যমে লোক নিয়োগ হবে। ইতোমধ্যে নিয়োগ বোর্ডের অনুমতি চেয়ে মাদ্রাসা বোর্ডে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
মাদ্রাসার গভর্নিংবডির সভাপতি কেশবপুর উপজেলার পাঁচবাড়ীয়া দাখিল মাদ্রাসার সহসুপার সোহরাব হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় তাঁর ভাতিজাকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি সত্য নয়। তাঁর ভাষ্য, এলাকার বর্তমান পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাফ্ফর হোসেন জানান, বিষয়টি সত্যি হলে এটা দুঃখজনক। কোনো অবস্থাতেই এটা মেনে নেওয়া হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- মাদ্রাসা