ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব চরবাসী, অস্থায়ী প্রতিরোধে মিলছে না সমাধান

যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব চরবাসী, অস্থায়ী প্রতিরোধে মিলছে না সমাধান
×

ছবি: সমকাল

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৫৯ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১১:০৯

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুরসহ যমুনার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চলছে। বর্ষা মৌসুমে এর তীব্রতা আরও বেড়েছে। এবারও যমুনার ভাঙনে গত দুই সপ্তাহে কুরসি ও ধীতপুর গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাসে আশপাশের শ্রীপুর, বারপাখিয়া, গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও হাতকরা এলাকাসহ প্রায় দুই হাজার বিঘা আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে।

ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার পলিথিনের ছাউনি কিংবা জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, ভাঙনরোধে এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প নেই। জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অনুরোধে পাউবো মাঝেমধ্যে জিওটেক্সটাইল বস্তায় বালু ভরে ডাম্পিংসহ অস্থায়ী প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়। তবে যমুনার তীব্র স্রোতের কাছে এসব উদ্যোগ টেকসই হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার কুরসিবাজার এলাকায় ভাঙনপাড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয় কয়েকজন বলেন, অন্তত ১০ থেকে ১২টি স্থানে বাঁশের ছটকা তৈরি করে বালুভর্তি জিওটেক্সটাইল বস্তা ডাম্পিং করা হলে ভাঙন অনেকটা ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।

ধীতপুরের আছিয়া খাতুন বলেন, বাড়ি নদীতে চলে গেছে। শূন্য ভিটায় পলিথিন টানিয়ে আছি। বৃষ্টি এলে সব ভিজে যায়। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব, জানি না।

আন্না খাতুন নামে একজন শিশুকন্যাকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন একটি পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ঘরে। পচে যাওয়া বেড়া ও নুইয়ে পড়া চালের নিচেই কাটছে তাঁর দিন। তিনি বলেন, যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। সরকারি এক কেজি চাল পেয়ে কোনোভাবে দিন চলছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সারমিন বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চাল ও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘সোনাতনী চরাঞ্চল হওয়ায় এখানে বর্তমানে কোনো তীররক্ষা প্রকল্প নেই। স্থানীয়দের অনুরোধে অস্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওই অঞ্চলে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে চরবাসীর দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।’

আরও পড়ুন

×