ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার

সম্পত্তি বিরোধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলে এজাহার

সম্পত্তি বিরোধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলে এজাহার
×

নিহত ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৩৪

সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি মিতালী আবাসিক এলাকায় ট্রিপল খুনের ঘটনায় মামলার এজাহার দাখিল করা হয়েছে। নিহত দম্পতির যুক্তরাজ্য প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় এসএমপির কোতোয়ালি থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। এজাহারে তিনি ও তার পিতার কেনা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করেন। সর্বশেষ সেই বিরোধের কারণে অজ্ঞাতনামা পেশাদার ও ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার পিতা-মাতা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এজাহারে সেলিনা সুলতানা উল্লেখ করেন, ১৯৯৭ সালে তিনি ও পিতা আব্দুস সাত্তার যৌথভাবে নগরীর রিকাবিবাজারের পুলিশ লাইন লুসনাই গির্জা সমিতির কাছ থেকে ১২ শতক জায়গা ইজারা নিয়ে বাসা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। ইম্পালস বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম গির্জা সমিতির জায়গার দলিল সৃষ্টি করে তাদের ইজারাকৃত জায়গার মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে তার পিতা স্বত্ব ২০১৬ সালে মামলা করেন। তখন তাকে হুমকি দেওয়া হয়। বাদী গির্জা সমিতির জায়গা ও তাদের জায়গা নিয়ে একাধিক মামলা-মোকদ্দমার কথা উল্লেখ করেন। 

এজাহারে টাকাপয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়নি উল্লেখ করা হলেও জায়গার দলিলপত্র লুট হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাড়াটিয়া খুনিদের দ্বারা হত্যা করানো হয় বলে উল্লেখ করে বাদী সেলিনা সুলতানা ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দলিলসহ কাগজপত্র উদ্ধারের আবেদন করেন।

এসএমপির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত দম্পতির মেয়ে এজাহার দিয়েছেন। পুলিশ সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

গত বুধবার সকালে রায়নগর রাজবাড়ি মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা, নিকুঞ্জ ভিলার মালিক বিয়ানীবাজার আখাখাজনা এলাকার মৃত আবরু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে (১৬) হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ওই দিন বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান দিয়ে অভিযুক্ত রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনি থেকে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে বাবুল একা তিনটি খুন করেছে বলে দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার কোনো মামলা না করায় আসামি গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টা হওয়ায় আসামি বাবুল মিয়াকে ওই দিন ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর তাকে হত্যা মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার দেখাবে।

দাফন সম্পন্ন

শুক্রবার বাদ আসর ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানিক পীর (রহ.) টিলা গোরস্থানে তাদেরকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে দম্পতির সাথে খুন হওয়া গৃহকর্মী তাহমিনাকে বৃহস্পতিবার তার গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলায় দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার আব্দুস সাত্তার দম্পতির জানাজার নামাজে বিপুলসংখ্যক লোক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রফেরত ছেলে আরিফ ইখতেখার অংশ নেন। জানাজার নামাজপূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বাবা যদি কোনো ভুল করেন আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। কেউ তার কাছে টাকাপয়সা পেয়ে থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। শুক্রবার তিনি আমেরিকা থেকে সিলেটে এসে পৌঁছে ওসমানী হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ গ্রহণ করেন। নিহত দম্পতির অপর তিন মেয়েও দেশে পৌঁছেন। তারা পিতাকে শেষবারের মতো দেখেন। ওই সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আরও পড়ুন

×