ইরান যুদ্ধ
সামরিক-রাজনৈতিক সংকটের চক্রে আটকে পড়ছেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ০০:১০
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ষষ্ঠ মাসে পদার্পণ করার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও সামরিক জটিলতা অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে। ব্যাপক বিমান হামলা এবং কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেহরানকে নতিস্বীকার করানো সম্ভব হয়নি। রণক্ষেত্রের লড়াই ছাড়িয়ে এ সংকট এখন ছড়িয়ে পড়েছে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক নীতি এবং প্রশাসনিক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার গভীরে।
সিএনএনের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া চাপ তীব্র হয়ে উঠছে। সম্প্রতি তুরস্ক সফরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকির মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য ফাঁস হলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এই গোপন বিমান বদলের ঘটনাটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও সফরসঙ্গীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানের সামরিক শক্তি ধসে পড়েছে সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দাবি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি এটি ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ওয়াশিংটনকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছে।
যুদ্ধের স্থায়িত্ব ট্রাম্পের ধারণার চেয়ে অনেক দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশলে বড় ধরনের পঙ্গুত্ব দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালালে অস্ত্র সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেছে। আবার একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধে কৌশলগত নজরদারি এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন বহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারিয়েছে ওয়াশিংটন।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও রিপাবলিকান পার্টির মিত্ররা এখন যুদ্ধ বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছেন। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, ‘আমাদের এটি দ্রুত শেষ করতে হবে।’ ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহাম থেকে শুরু করে ট্রাম্প সমর্থক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা সতর্ক করে বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ সব সময়ই ভয়াবহ রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আসে।
অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ কৌশল
সরাসরি বিমান হামলা চালিয়ে বা স্থল অভিযানের ঝুঁকিতে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে পর্যায়ক্রমে জাহাজ অদলবদল করে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ ইরানের ওপর সমুদ্র অবরোধ বজায় রাখার সক্ষমতা রাখে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরগুলো দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ রাখা এবং তেহরানের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের প্রধান পথ অবরুদ্ধ করা।
তবে মার্কিন এই কঠোর ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তেহরান কোনো ধরনের আপস করতে অস্বীকার করেছে। ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন, ইসরায়েলি ও শত্রুভাবাপন্ন দেশের নৌযান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই জলপথ স্বাভাবিক হতে দেওয়া হবে না। ইরানের নীতিনির্ধারকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
হরমুজে আমিরাতের দুই সরকারি জাহাজে হামলা, অভিযোগ ইরানের দিকে
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। আমিরাত সরকার এ ঘটনাকে সরাসরি ইরানি হামলা হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। এ ছাড়া ইউকেএমটিওর প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রণালিটিতে ৫০টিরও বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।