সেতুর কাজ শেষ না করেই পুরো বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার
নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের ঘনিপাড়া গ্রামে সংযোগ সড়কবিহীন সেতু সমকাল
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলে এলজিইডি কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু জনগণের কোনো কাজেই আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ কাজ শেষ না করেই পুরো বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার। গাইডওয়াল ও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় সলিমাবাদ ইউনিয়নের ঘুনিপাড়া গ্রামের কাটাপাড়া খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৫ মিটার প্রস্থ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় তিন কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কিন্তু গাইডওয়াল ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় তিন বছর ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ব্যবহার অনুপযোগী সেতুটি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্প সংশোধন করে সংযোগ সড়কের কাজ করা হবে।
সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পান রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানা। তিনি কাজ না করায় সেতুর কাজটি করেন সাব-ঠিকাদার রিপন মিয়া। সংযোগ সড়ক ও গাইডওয়াল নির্মাণ না করেই সম্পূর্ণ বিল তুলে নিয়েছেন তিনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়ার পর আর কোনো কাজ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু জোবায়ের মাসুম খান বলেন, সেতুটি চলাচলের উপযোগী হলে অন্তত ১৫-২০ গ্রামের মানুষের উপকার হতো। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগী আনা-নেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেতুতে উঠতে না পরায় এলাকাবাসীকে কাদাপানি মাড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
নাগরপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস শফিকুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়। দ্রুত গাইডওয়াল ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনোয়ারা বেগম পনু বলেন, কাটাপাড়া খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি তিন বছর ধরে পড়ে আছে। সেতুর মূল কাজ শেষ হলেও মানুষের কোনো কাজে আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্মকর্তা অনিয়ম ও দুর্নীতি কারণে সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে সাব-ঠিকাদার রিপন মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ফোন ধরেননি।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন ভূঁইয়ার ভাষ্য, সেতুটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। সেতুর পাশেই হাট-বাজার, স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। অটোরিকশা চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে কোমর পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। এলজিইডির দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এলজিইডির নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার দ্রুব বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এলজিইডি টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা ও স্থানীয় জনগণের কিছু সমস্যার কারণে সেতুটির সংযোগ সড়ক হয়নি। প্রকল্পটি সংশোধন করে দ্রুত গাইডওয়াল ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে জনগণের ব্যবহার উপযোগী করে সেতুটি খুলে দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- সেতু