ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
×

প্রতীকী ছবি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:১৫

কুমিল্লা নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পেট ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর মোবারক হোসেন (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ভুল সিদ্ধান্ত ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকের দাবি, চিকিৎসায় কোনো ভুল ছিল না।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর ঝাউতলা এলাকার মুন হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোবারক হোসেনের মৃত্যু হয়। তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি ইউনিয়নের দক্ষিণখার এলাকার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।

স্বজনদের ভাষ্য, গত ২৫ জুলাই পেট ব্যথা নিয়ে মোবারককে মুন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২৮ জুলাই তাঁর পিত্তথলীর অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরও পেটের ব্যথা না কমায় চিকিৎসকরা জানান, তাঁর অন্ত্রে প্যাঁচ লেগেছে। পরে গত ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর মোবারককে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে কেবিনে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাতে দায়িত্বে থাকা ডিউটি চিকিৎসক হাসপাতাল থেকে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।

তাঁদের দাবি, প্রথম অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

দেবিদ্বারের ধামতী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন, তাঁর কথায় বিশ্বাস করেই মোবারককে মুন হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইমার্জেন্সিতে ভর্তির পর এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়। রক্তে ইনফেকশন থাকার বিষয়টি জানার পরও তাঁকে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘১০ দিনের মধ্যে দুইবার অপারেশন করা হয়েছে। আমি মনে করি, সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও মুন হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া সার্জন ডা. সোহেল। তিনি বলেন, প্রথমে পেটের ব্যথার কারণ হিসেবে পিত্তথলীতে অস্ত্রোপচার করা হয়। তখন খাদ্যনালীতে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। পরে রোগী আবার ব্যথার কথা জানালে পরীক্ষা করে খাদ্যনালীতে সংক্রমণ পাওয়া যায়। এ কারণে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবার পিত্তথলীর অপারেশন করা হয়েছিল। পরে খাদ্যনালীতে অপারেশন করতে হয়েছে। চিকিৎসায় কোনো ভুল ছিল না।’

মৃতের ছেলে শিক্ষার্থী সজিব অভিযোগ করেন, প্রথম অস্ত্রোপচারের পরও বাবার ব্যথা না কমলেও যথাযথভাবে রোগ নির্ণয় না করেই দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×