ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনা নগরীর চার ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে

খুলনা নগরীর চার ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে
×

 হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা শাকিল আহমেদ। চলতি মাসের শুরু থেকেই তাঁর শরীরে জ্বর। গত সোমবার পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ভর্তি হন নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে। দুদিন পর তাঁর ছোট মেয়েরও জ্বর আসে। পরে পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাঁর পরিবারের চারজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

চিকিৎসাধীন শাকিল আহমেদ সমকালকে বলেন, ‘শুধু আমাদের পরিবারই নয়, পাশের এলাকার ঘরে ঘরে মানুষের জ্বর। টুটপাড়ার অনেক গলির প্রায় সবারই ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে।’
শাকিল আহমেদের বাড়ি খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে। পাশেই ৩০ নম্বর ওয়ার্ড। কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ৩০, ২৯, ২৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে বেশি। এ জন্য এই চার ওয়ার্ডকে রেড জোন বা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে মশক নিধনে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মশার লার্ভা জন্মানোর মতো নোংরা পরিবেশ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে।

কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, গত জুলাই থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল। চলতি আগস্টের শুরু থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৯৭৫ জন। মারা গেছেন দুজন। এর মধ্যে মাসের প্রথম ১৩ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৬২৯ জন।

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে
কেসিসির পরিসংখ্যান বলছে, ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে; ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১০০ জন। পাশাপাশি রেড জোনে থাকা ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮০ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন। এর বাইরে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ১৭, ১৮, ২৩, ২৪ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডকে কমলা জোন বা মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পাঁচ ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬৮। হলুদ জোন বা কম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা ১৫, ২০, ২৫ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ১১৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম সমকালকে বলেন, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বড় বড় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিদিন ডেঙ্গু শনাক্তের রিপোর্ট কেসিসিতে পাঠায়। ডেঙ্গু পরীক্ষার পর পজিটিভ হওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান সমকালকে বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ১৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তৎপর কেসিসি, মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালত
মশক নিধনে বিশেষ কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে গতকাল শনিবার থেকে কেসিসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল প্রথম দিন নগরীর ২৮ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের চারটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে পরিষ্কার রাখার লিখিত অঙ্গীকার নেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আক্রান্তের হার বিবেচনা করে চারটি ওয়ার্ডকে রেড, পাঁচটি ওয়ার্ডকে কমলা ও চারটি ওয়ার্ডকে হলুদ জোন ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০টি ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রের সাহায্যে মশক নিধন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থান ও বড় নালার মশা মারতে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি হুইল ব্যারো ফগার মেশিন (ধোঁয়া দিয়ে মশা মারার যন্ত্র) ব্যবহার করা হচ্ছে। 

উদ্বেগ ও জবাবদিহির দাবি
মশক নিধনে কেসিসির বিশেষ তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক নেতারা। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি কুদরত ই খুদা বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ইতিবাচক। কিন্তু উপদ্রব বাড়ল কেন? কার গাফিলতিতে ঘরে ঘরে ডেঙ্গু বাড়ছে, সেটি খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, কেসিসির সঙ্গে নগরবাসীকেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আরও পড়ুন

×