ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীতে তিন খুনের মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

নোয়াখালীতে তিন খুনের মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
×

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:২২ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:৩১

নোয়াখালী সরকারি কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা হারে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে প্রত্যেককে এক বছরের দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় দুইজনকে মামলা বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ জজ মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। আদালতের সরকারি পিপি তাফাক্কর হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মফিজ উল্যার বাড়ির কুদরত উল্যাহর ছেলে ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভার শান্তিনগর মহল্লার তোফায়েল আহম্মেদের ছেলে মো. সৌরভ (২৭)। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)। আর বেকসুর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন অনন্তপুর গ্রামের ফয়সাল মাহমুদ বাপ্পী ও মো. মামুন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজ উচ্চ মাধ্যমিক শাখা (পুরাতন কলেজ)-এর পাশে একটি পুকুরে কুকুর গোসল করানোকে কেন্দ্র করে এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ও নোয়াখালী পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকা অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন দিবাগত রাত ৯টার সময় অনন্তপুর গ্রামের হাজী কুদরত উল্যাহর ছেলে সাজু ও সৌরভ তিন যুবককে পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে বুকের ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নোয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজছাত্র মাইজদী গ্রামের মৃত নুর আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম ওয়াসিম মারা যান। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার দুই বন্ধু একই গ্রামের শিক্ষার্থী জয়নুল আবেদীনের ছেলে ফজলে রাব্বী রাজিব (২২) ও মৃত নুরুল হকের ছেলে জামসেদুল হক ইয়াছিন (২৩) আহত হন। তারা দুজনেই পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ মার্চ দিবাগত রাত ৩টার সময় সাইফুল ইসলাম ওয়াসিম ও ২২ মার্চ রাত ১০টার সময় চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ আইসিইউতে মারা যান। 

এ ঘটনায় গত ২২ মার্চ রাতে নিহত রাজিবের মা কামরুন্নাহার ছবি বাদী হয়ে সাজুকে প্রথম আসামি করে এবং ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ওই হত্যা মামলায় বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

বিশেষ জজ আদালতের পিপি অ্যাড. তাফক্কর হোসেন বলেন, ২০১৬ সালের মামলা দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৬ সালের ১৬ আগস্ট রায় ঘোষণা করা হয়। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলায় তিনজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি ফিরোজ আলম বাপ্পীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অপর সাত আসামি পলাতক রয়েছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. শামসুদ্দিন।

নিহত শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বী রাজিবের মা ও মামলার বাদী কামরুন নাহার বেগম ছবি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের দণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। 

আরও পড়ুন

×