ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রায়গঞ্জে বিএনপির এমপির গাড়িতে হামলায় গ্রেপ্তার ১ 

রায়গঞ্জে বিএনপির এমপির গাড়িতে হামলায় গ্রেপ্তার ১ 
×

ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ০০:৪৬

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনায়  গতকাল রোববার বিকেলে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জামায়াত-শিবির ওই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এমপি হামজা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জের আড়চালা এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপন নিয়ে মতবিনিময় সভা শেষে ফেরার পথে সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. খন্দকার শামীমুল হাসান শামীম বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২০–৩০ জনকে আসামি করে রায়গঞ্জ থানায় মামলা করেন। 

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেন পৌরসভার রনথিতা এলাকার বাসিন্দা এবং ‘ক্যাফে ফাস্ট ফুড’-এর মালিক। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

হামলার প্রতিবাদে গতকাল সকালে উপজেলা বিএনপি কার্যালয় চত্বরে প্রতিবাদ সভা ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। 

এদিকে জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমপির সফরসঙ্গী পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে কটূক্তি করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। 
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আয়নুল হক বলেন,  'ফয়সালের সাথে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের পূর্বের বিরোধ থাকতে পারে। ফয়সাল তাদের রোষানলে পড়ে। আমি তাকে গাড়িতে তুলে জীবন রক্ষা করি। আমাদের দলেরও দু-চারজন লোক আছে, যাদের সাথে এনসিপি ও জামায়াতের লোকজন মিলিতভাবে ফয়সালকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল। আমি তাকে রক্ষা করায় তারা আমার গাড়ি ভাঙচুর করে।'

এদিকে গতকাল বিকেলে পৌরসভার গুনগাতী তালতলা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। লিখিত বক্তব্যে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আলী মর্তুজা দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াত-শিবিরকে না জড়িয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক।

কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার সংবাদ সম্মেলন
গতকাল দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এমপি আমির হামজা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, 'গণঅধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'একজন জনপ্রতিনিধি ও আলেম হিসেবে জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করা আমার দায়িত্ব। কিন্তু রাজনীতির নামে যারা একজন সংসদ সদস্যের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়, তারা সমাজ ও কুষ্টিয়াবাসীর শত্রু।' 

হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা নাহলে কুষ্টিয়ার শান্তিকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এমপি হামজা। 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া- ২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আমনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন প্রমুখ।

'হামলা মোকাবেলায় লাঠি রাখতে হয়'
আগের দিন শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কুষ্টিয়ার ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও হামজার সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এসময় হামজার গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এর জেরে সন্ধ্যার পর গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আমির হামজার গাড়ীর ভেতর থেকে দুটি লাঠি বের করা হয়। এই লাঠি হামজার সমর্থকদের হাতে দেখা যায়। এর মধ্যে তার গাড়িচালকও ছিলেন বলে জানা গেছে। 
লাঠি বের করার পর হামজা গাড়ি চালিয়ে বাসায় চলে যান। বাসায় যাওয়ার পর গাড়ি থেকে লাঠি ভর্তি একটি বস্তা বের করে গ্যারাজে রাখছেন এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পরলে সমালোচনা শুরু হয়।

গতকাল সংবাদ সমম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমির হামজা বলেন, তার নিরাপত্তার জন্য কোনো পুলিশ নেই। তিনি এখনো কোন নিরাপত্তা পাননি। এ অবস্থায় নিরাপত্তার জন্য গাড়িতে কয়েকটি লাঠি রাখেন। হামলা হলে মোকাবেলা করার জন্য লাঠি রাখতে হয়।

বিকেলে আমির হামজার গাড়ীতে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা জামায়াত।

আরও পড়ুন

×