ইবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কক্ষে ছাত্রদলের ভাঙচুর ও হেনস্তা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল আওয়ামীপন্থি কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তার অফিস কক্ষে হামলা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩৪
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ১৫ আগস্ট ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীপন্থি কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তার অফিস কক্ষে হামলা, ভাঙচুর এবং তাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে ছাত্রদল। গতকাল রোববার দুপুরে প্রশাসন ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, টিএসসিসি ও কয়েকটি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে না আসতে হুমকি দেওয়া হয়।
জানা গেছে, দুজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মকর্তার অফিস কক্ষে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। প্রথমে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সংস্থাপন শাখার সাব-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনার কক্ষে যান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ সময় কক্ষ ভাঙচুর ও তাঁকে হেনস্তা এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদকে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরে টিএসসিসির অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদকে মারধর ও তাঁর টেবিল ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধরা। এরপর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে হুমকি-ধমকি দেন তারা। ফেরার পথে বিভাগটির ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। সর্বশেষ তারা ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের কক্ষে গিয়ে তাঁকে হেনস্তা ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন। তাঁর কক্ষে আলমারিতে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবিও ভাঙচুর করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এসব ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তরা হলেন– শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ তৌফিক ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয় ও খালেদ সাইফুল্লাহ এবং কর্মী রাহি, সাবিক, উল্লাস মাহমুদ, নাঈম, সিজান, সাগর আলী ও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তাদির আহমেদসহ ২৫ জন নেতাকর্মী।
ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর যেহেতু এই বিভাগের এবং প্রক্টর আমার ছাত্র। বিষয়টি তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, অফিসে বসেছিলাম। কিছু ছেলেপেলে এসে বলে ‘আপনি শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্ট দিছেন, কালকে থেকে আসবেন না।’ এ সময় তারা আমাকে গালাগাল করে এবং হুমকি-ধমকি দেয়। চলে যাওয়ার সময় আমার ছাত্রদেরকেও তারা মারধর করেছে।
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, দুপুরে আমি অফিসে বসে ছিলাম। তারা হঠাৎ এসে বলে তুই শেখ মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিছিস কেন? তুই আর এখন থেকে ক্যাম্পাসে আসবি না। তারা আমার দিকে একটা প্লেট ছুড়ে মারে এবং মারতে উদ্যত হয়।
হামলা-ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিয়ে পোস্ট করে ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তারা এখনও আওয়ামী লীগকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চান, ফ্যাসিজম কায়েম করতে চান। তা দমাতেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অফিসে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যাদের বিষয় নজরে এসেছে, আমরা তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে প্রয়োজনে আমরা আইন হাতে তুলে নেব। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে আমাদেরই আইন হাতে তুলে নিতে হবে।
প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, যেসব ঘটনা ঘটেছে প্রক্টরিয়াল বডি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে সেগুলো সামাল দিয়েছে।
উপাচার্য ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার ওপর চড়াও হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে ডেকে কথা বলেছি। তারা ভুল স্বীকার করেছে। আশা করছি তারা ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না। আর ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। কমিটি আরও ১৫ দিন সময় চেয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন জমা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- বঙ্গবন্ধু