শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
বাসা বরাদ্দে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
ছবি: ফাইল
কামরুল ইসলাম সজল, শেকৃবি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৪৯
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) এক শিক্ষককে বাসা বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দেওয়া এই বরাদ্দের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাসা বরাদ্দ পাওয়া ওই শিক্ষক হলেন কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক তাসমেরিন আক্তার। তিনি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফের শ্যালকের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাসমেরিন আক্তার ২৪৮ পয়েন্ট নিয়ে আবেদন করে ‘দোলনচাঁপা’ ভবনের দোতলার এক হাজার ২৫০ বর্গফুটের আয়তনের বাসা (ফ্ল্যাট) বরাদ্দ পান। আবেদনকারীদের মধ্যে তাসমেরিনের চেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া একাধিক শিক্ষক ছিলেন। ৬২৭.২ পয়েন্ট পেয়ে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী ছিলেন একজন সহযোগী অধ্যাপক। তাঁকে এই বাসা না দিয়ে জুনিয়র শিক্ষককে বরাদ্দ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্ষতি হবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বাসাটি বরাদ্দের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ৯ জুলাই উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে তাসমেরিন আক্তারের নামে বাসা বরাদ্দের অফিস আদেশ জারি করা হয়। বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে পয়েন্ট, জ্যেষ্ঠতা, পদমর্যাদাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার নিয়ম আছে। কিন্তু সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী শিক্ষককে বাদ দিয়ে তুলনামূলকভাবে কম পয়েন্ট পাওয়া একজনকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বরাদ্দকৃত বাসাটিতে সাধারণত সিনিয়র শিক্ষকরাই থাকেন বলে শিক্ষকদের একটি সূত্রে জানিয়েছে।
এদিকে তাসমেরিনকে ওই বাসা বরাদ্দের কারণে বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা কমবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বাসা ভাড়া হিসাবে মূল বেতনের ৫৫ শতাংশ কাটা হয়। সে ক্ষেত্রে ৬৩ হাজার টাকা মূল বেতনের সহযোগী অধ্যাপককে বাসাটি দেওয়া হলে মাসে ৩৪ হাজার ৬৫০ টাকা এবং বছরে চার লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা পাওয়া যেত। বিপরীতে তাসমেরিনের মূল বেতন ২৪ হাজার ২৬০ টাকা। এই হিসাবে তাঁর কাছ থেকে মাসে ১৩ হাজার ৩৪৩ টাকা এবং বছরে এক লাখ ৬০ হাজার ১১৬ টাকা আসবে। দুজনের ক্ষেত্রে বার্ষিক পার্থক্য দুই লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৪ টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই দেখছি, বর্তমান উপাচার্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও এলাকাপ্রীতি করেন। যদি এমনটাই হয়ে থাকে, তাহলে জুলাই আন্দোলনের সার্থকতা কোথায় রইল।’
জানতে চাইলে তাসমেরিন আক্তার গতকাল রোববার সমকালকে বলেন, ‘আমার নামে বাসা বরাদ্দের পেছনে উপাচার্য স্যারের কোনো ভূমিকা বা সুপারিশ ছিল না। বরাদ্দ কমিটিই নিয়ম অনুযায়ী এটি দিয়েছে। অন্য কারও পয়েন্ট বেশি ছিল কিনা, সে বিষয়ে কমিটিই ভালো বলতে পারবে। ফ্ল্যাটটি বেশ পুরোনো হওয়ায় নিজের প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করে সংস্কার করাচ্ছি। সব কাজ শেষ হলে চলতি মাসের শেষের দিকেই আমি বাসায় উঠব।’
অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, বাসা বরাদ্দে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা ছিল না। বাসা বরাদ্দ কমিটি ও প্রকৌশল শাখা যে সুপারিশ করেছে, উপাচার্য হিসেবে তিনি কেবল সেটিই অনুমোদন করেছেন। কমিটির বাইরে গিয়ে তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি বা হস্তক্ষেপ করেননি।
বাসা বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসাইন বলেন, কমিটি কেবল একটি খসড়া প্রস্তাব প্রশাসনের কাছে পাঠায়। সেটি পরিবর্তন, সংযোজন-বিয়োজন বা চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্ণ ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
- বিষয় :
- শেকৃবি