কাশিয়ানীতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এআই ও ক্যারিয়ারবিষয়ক কর্মশালা
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৪৯
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্যারিয়ারবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘এআই অ্যান্ড বিয়ন্ড: ফিউচার স্কিলস বুটক্যাম্প ২০২৬’ শীর্ষক এ কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
সোমবার কাশিয়ানী উপজেলা অডিটোরিয়ামে আগামীর সম্ভাবনা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার ১০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম ও দশম শ্রেণির দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কাশিয়ানীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাশিয়ানী জি.সি. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ডিভাইনলি বাংলাদেশের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফাহিম এবং ‘সারাদেশে এআই’ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগী আসাদুজ্জামান জয়।
কর্মশালায় পড়াশোনায় এআইয়ের ব্যবহার, তথ্য যাচাই, প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাব এবং ক্যারিয়ার নির্বাচনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের মতো মানবিক দক্ষতা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আগামীর সম্ভাবনা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক টি.এম. সামস তাবরিজ আকিব বলেন, “আমি কাশিয়ানীরই ছেলে। এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করার দায়বদ্ধতা আমার কাছে ব্যক্তিগত। আমি চাই, আমাদের ছোট ভাই-বোনেরা কোনো দিক থেকেই শহরের শিক্ষার্থীদের চেয়ে পিছিয়ে না থাকুক। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভবিষ্যৎ দক্ষতার ক্ষেত্রে তারা যেন সমান সুযোগ পায়।”
তিনি বলেন, এআই শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করতে পারে এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। তবে এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রজন্ম নয়, বরং নিজেদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে এআইকে কার্যকর সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এমন শিক্ষার্থী তৈরি করাই লক্ষ্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। এআই সম্পর্কে সঠিক ধারণা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের সঙ্গে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় জরুরি।
আসাদুজ্জামান জয় বলেন, এআই শেখা মানে শুধু প্রযুক্তি বা কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার শেখা নয়। সঠিক প্রশ্ন করা, তথ্য যাচাই এবং এআইয়ের দেওয়া তথ্য নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে মূল্যায়নের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, এআই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত শেখার সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারে। কঠিন বিষয় বোঝা, নতুন ধারণা তৈরি ও অনুশীলনে এটি সহায়তা করতে পারে। তবে সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব মানুষেরই।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। আয়োজকরা জানান, শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি ও শিক্ষার সুযোগের ব্যবধান কমিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
- বিষয় :
- এআই