ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘স্কুলঘর তো নদীত চলি গেল, আমরা এখন কই ক্লাস করব’

‘স্কুলঘর তো নদীত চলি গেল, আমরা এখন কই ক্লাস করব’
×

ছবি: সমকাল

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ২২:২৮

‘স্কুলঘর তো নদীত চলি গেল, আমরা এখন কই ক্লাস করব। আজ কতদিন থাকি স্কুলঘর রক্ষা করার জন্য স্যার বিভিন্ন জায়গাত দৌড়াদৌড়ি করছে। এর আগত মন্ত্রী, ডিসি, ইউএনও আসি ঘুরি গেল, তাও তো স্কুলের ঘর রক্ষা হলো না। কত দিনে এই স্কুলঘর উঠবে, তারপর আবার ক্লাস শুরু হইবে। আমরা এখন কী করব।’

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিস্তার তীব্র ভাঙনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় স্কুলে আসা পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী এসব কথা বলে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ৮ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের তিস্তার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় লালচামার বাজারের পথসভার বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন আর কোনো প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, রাস্তাঘাট নদীতে বিলীন হতে দেওয়া হবে না। স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগেই তিস্তার পেটে চলে গেল স্কুলটি। 

তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে স্কুলটি নদীতে চলে গেল। এলাকার ছেলেমেয়েদের দ্রুত পড়ালেখার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। 

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম সাদা বলেন, মঙ্গলবার ভোরে ভাঙনের খবর পেয়ে তিনি অন্য সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে স্কুলে ছুটে যান। দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কিছু আসবাব সরিয়ে নেন। সেই সঙ্গে টিনশেড ঘরের টিন খোলার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে একটি ঘর নদীতে চলে যায়। মুহূর্তের মধ্যে স্কুলের ওয়াশ ব্লকসহ অন্য ঘরটিও নদীতে চলে যায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, খবর পেয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার মুকুল চন্দ্র বর্মণসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সহায়তায় স্কুলের কিছু আসবাব সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এলাকার শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আনার জন্য অতিদ্রুত শিক্ষা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, সকালে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা অফিসার বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষা অফিসার এবং পাউবো কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এলাকার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার পরিবেশ ফিরে আনার দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের ভোরের পাখি স্কুলটির বিষয়ে তিনি অবগত। এখানে পাউবোর কিছু করার নেই। নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপরমহলে তথ্য দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং, শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। 

আরও পড়ুন

×