কুষ্টিয়ায় জামায়াত গণঅধিকারের পাল্টাপাল্টি মামলা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:২৪
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা ও তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগে জমা দেওয়া এজাহার মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীর ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগে জমা দেওয়া এজাহারও মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
গত সোমবার রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় পৃথকভাবে এই মামলা দুটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, সংসদ সদস্য আমির হামজার ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাসের দেওয়া এজাহারে গণঅধিকার পরিষদের ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন হোসেনের দেওয়া এজাহারে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলায় কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার দেওয়া এক বক্তব্যের জেরে গত শনিবার বিকেলে শহরের থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে প্রতিবাদ সভা করে গণঅধিকার পরিষদ। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এমপি আমির হামজা নিজ গাড়িতে করে পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীসহ ওই এলাকা দিয়ে তাঁর বাড়ি যাচ্ছিলেন।
এ সময় সমাবেশ থেকে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে এমপির বহরে থাকা জামায়াতের নেতাকর্মী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমির হামজার সমর্থকরা শহরের হাইস্কুল মার্কেটে অবস্থিত গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালায়। পরে তারা মিছিল নিয়ে হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে থাকা গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা।