গ্যাস সংকট
নরসিংদীসহ চার জেলায় কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত
গণপরিবহন ও আবাসিকেও গ্যাস সংকটের গভীর প্রভাব পড়ছে
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৩ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৫৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
নরসিংদীতে গ্যাস সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গতকাল মঙ্গলবারও কয়েকশ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। গণপরিবহন ও আবাসিকেও গ্যাস সংকটের গভীর প্রভাব পড়ছে।
এদিকে, গ্যাস সংকটে নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বেশ কিছু ভারী শিল্পে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকার সাভারে পোশাক কারখানায় উৎপাদন কমছে। গাজীপুরে গ্যাসের চাপ বাড়লেও কারখানা চালানোর মতো পর্যাপ্ত নয়। হবিগঞ্জের মাধবপুরে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র সংকট চলছে। গ্যাস না পেয়ে ময়মনসিংহে বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও বন্ধ আছে।
নরসিংদীতে টেক্সটাইল, ডাইং মিলসহ বিভিন্ন মাঝারি ও ভারী শিল্পকারখানা গ্যাসের অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কারখানার মালিকরা জানান, নরসিংদীতে প্রায় ৫০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে। তবে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় কোনো কারখানাতেই মেশিনারিজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমেছে। সময়মতো উৎপাদন করতে না পারায় কাপড়ের অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন মিল বন্ধ থাকায় কারখানার শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে শিল্পমালিকদের।
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রাশেদুল হাসান রিন্টু (সিআইপি) বলেন, ‘নরসিংদী দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। এখানকার তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও ডাইং মিলের ওপর দেশের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের যে তীব্র সংকট চলছে, তাতে শিল্পকারখানাগুলোর চাকা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় আমরা উৎপাদন চালু রাখতে পারছি না।’
সরেজমিন নরসিংদী শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ একেবারেই নেই। গ্যাস নেওয়ার জন্য ভোররাত থেকে শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যানবাহন পাম্পের সামনে ও মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনের চালকদের।
গ্যাস সংকটের প্রভাব দেখা গেছে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে। চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা একেবারে কমে গেছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যে কটি যানবাহন চলছে, তারা দ্বিগুণের বেশি ভাড়া আদায় করছে।
এমএমকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক ও নরসিংদী জেলা সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মোমেন মোল্লা বলেন, সাধারণত সিএনজি পাম্পগুলোতে ১২ থেকে ১৫ পিএসআই গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও কোনো কোনো দিন শূন্য থেকে ২ পিএসআই পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
নরসিংদী শহরের অধিকাংশ বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ একেবারে কমে গেছে। কয়েকজন গৃহিণী জানান, কয়েক দিন ধরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চুলা জ্বলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে চড়া দামে খাবার কিনে খাচ্ছেন। অনেকে মাটির চুলা কিংবা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে কোনোমতে রান্নার কাজ চালাচ্ছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এর মধ্যে হঠাৎ সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত পুরো নরসিংদীতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
নরসিংদী তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, জেলার চাহিদার তুলনায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। এর মধ্যে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সিএনজি স্টেশন, কলকারখানা ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে সব রি-রোলিং মিল বন্ধ
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাসের অভাবে টানা ১১ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে সব রি-রোলিং মিল ও স্টিল মিল। বাংলাদেশ রি-রোলিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবুর রশিদ জুয়েল বলেন, ‘আজ (গতকাল) পর্যন্ত গ্যাসের অভাবে মিল চালু করতে পারিনি। এ রকম আর কখনও হয়নি। সরকারের কাছ থেকে আমরা পুরোপুরি আশ্বাসও পাচ্ছি না।’
সারাদেশে ৪০টি আধুনিক ও ১৫০টির বেশি রি-রোলিং মিল রয়েছে। এর বড় একটা অংশই নারায়ণগঞ্জে।
জেলার সোনারগাঁর আমান ইকোনমিক জোনের জিএম নাদিরুজ্জমান জানান, গতকাল পর্যন্ত তাদের সিমেন্ট কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদনে যেতে পারেনি। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে কারখানা। নারায়ণগঞ্জের আটটি সিমেন্ট কারখানার পরিস্থিতি একই রকম।
টাঙ্গাইলে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত
টাঙ্গাইলে গতকাল সকাল থেকে গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন ধরনের অন্তত ৪৫টি কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ৮-১০টি কারখানায় বিকল্প হিসেবে ডিজেল দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়।
নাসির গ্লাসের সহকারী ব্যবস্থাপক রাসেল হোসেন সমকালকে বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের কারখানা পুরোপুরি বন্ধ। শুধু ডিজেল দিয়ে ফার্নেস গরম করে রাখা হচ্ছে। তাও চাহিদামতো ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। শত শত শ্রমিক বেকার বসে আছেন। ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
টাঙ্গাইল গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে টাঙ্গাইল ১৫০ পিএসআই গ্যাস দেওয়ার কথা। বর্তমানে তা ২০-২৫ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে।
রমজান আলী বলেন, জেলার গোড়াই, মির্জাপুর, হাঁটুভাঙ্গা, নাটিয়াপাড়ায় বিভিন্ন ধরনের ৫১টি কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। মির্জাপুরে অবস্থিত নাহিদ কটন, উত্তরা স্পিনিং মিলস, ইয়ুথ স্পিনিং মিলস, খান গার্মেন্টস, কমপিট কম্পোজিট, নিউটেক্স, সাদিয়া টেক্সটাইল বর্তমানে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না করায় সব কারখানাই বন্ধ রয়েছে। তবে নাটিয়াপাড়ায় অবস্থিত নাসির গ্লাস, গোড়াই এক্সপ্লোর গার্মেন্টস লিমিটেডসহ কয়েকটি কারখানা বিকল্প হিসেবে ডিজেল দিয়ে কোনোরকমে চালু রেখেছে।
গাজীপুরে গ্যাসের চাপ বাড়লেও পর্যাপ্ত নয়
গাজীপুরে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও পর্যাপ্ত চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আগের চেয়ে গ্যাসের চাপ সামান্য বেড়েছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান। এ অবস্থায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পালা করে শ্রমিকদের কাজে লাগাচ্ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন সমকালকে বলেন, ‘সামান্য চাপ বেড়েছে বলে খবর পেয়েছি। তবে সেটি উল্লেখ করার মতো না।’
তিতাস গ্যাস গাজীপুর জোনের ব্যবস্থাপক (বিতরণ) সাইফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে গ্যাসের চাপ আরও বাড়বে।
গাজীপুরের এসএ স্পিনিং মিলস লিমিটেড কারখানার ডিজিএম আজিজুল হক বলেন, ‘আমাদের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ আগের মতোই আছে। এখন ঠিকমতো বিদ্যুৎও পাচ্ছি না। সারাদিন অর্ধেকের বেশি মেশিন বন্ধ থাকছে। কারখানার শ্রমিকদের পালা অনুযায়ী ছুটি দেওয়া হয়েছে।’
সাভারে পোশাক কারখানায় উৎপাদন কমছে
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত একেএইচ গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম সমকালকে জানান, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট কাটেনি। পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে। দিনে গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। রাতে কিছুটা বাড়ে। এতে কারখানার কোনো লাভ হয় না।
আবুল কাশেম আরও বলেন, ‘শুধু গ্যাসের কারণেই কারখানা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে– এমন তথ্য আমার জানা নেই। গ্যাস সংকটে প্রতিটি শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমেছে, এটি নিশ্চিত। ডিজেল ও এলপিজি দিয়ে মালিকরা কারখানার উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’
সাভারে উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকার আল-মুসলীম গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ জানান, গ্যাস সংকটের কারণে কারখানার ওয়াশিং, ডাইং ইউনিটে কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
মাধবপুরে কারখানা সচল, সিএনজি স্টেশনে সংকট
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৮১টি শিল্পকারখানায় রোববার থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক। তবে সিএনজি স্টেশনগুলোতে সংকট এখনও কাটেনি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর ও নোয়াপাড়া, হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্টেশনে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ভোরে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক চালককে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
নোয়াপাড়ার আল-আমিন, সুশান ও সেমেকো সিএনজি স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। আল-আমিন স্টেশনের মালিক মো. বাবুল চৌধুরী বলেন, গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
শাহজিবাজার গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের ব্যবস্থাপক মো. খালেদ গনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের চাপ কম থাকায় সংকট তৈরি হয়েছিল। শিল্পকারখানায় সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। শিগগির সিএনজি স্টেশনেও সরবরাহ বাড়বে।
গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ
গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ২১০ মেগাওয়াটের সরকারি আরপিসিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ২৬ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে বিভাগজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। শহরে দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা এবং গ্রামীণ এলাকায় ১২-১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ জানান, গ্যাস না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রটি চালু করা অনিশ্চিত।
এদিকে তিতাস গ্যাসের ভালুকার ম্যানেজার (অপারেশন) মো. শামীম হোসেন সমকালকে বলেন, ‘মূল পাইপলাইনে এক হাজার পিএসআই গ্যাস আসার কথা থাকলেও এখন একেবারে কম আসছে। আমরা প্রায়োরিটি বিবেচনা করে গ্যাস সাপ্লাই দিচ্ছি। প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণে অভিযোগ আসছে।’
গ্যাসের ঘাটতি আরও বেড়েছে
দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা গ্যাস মিলিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার হিসাবে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২২৫ দশমিক ৭ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬২ দশমিক ৬ কোটি এবং এলএনজি থেকে এসেছে ৬৩ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট। মোট সরবরাহের প্রায় ২৮ শতাংশ এসেছে এলএনজি থেকে।
সোমবার রাত ৮টার হিসাবে মোট সরবরাহ ছিল প্রায় ২২৮ দশমিক ৭ কোটি ঘনফুট, অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ কমেছে প্রায় তিন কোটি ঘনফুট। সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে ১৮ আগস্ট সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান ছিল প্রায় ১৫৪ দশমিক ৩ কোটি ঘনফুট।
স্বাভাবিক সময়ে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় চললে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এলএনজি কার্গোর সরবরাহ সমস্যা ও টার্মিনাল-সংক্রান্ত জটিলতায় সেই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ, শিল্প, সার ও সিএনজি খাতে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা অগ্রাধিকার পেলেও শিল্পে চাপ বেড়েছে। ২০ জুলাইয়ের তুলনায় ১৬ আগস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে শিল্পে সরবরাহ কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখতে শিল্পে সরবরাহে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে; বাড়ছে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের খরচ। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে। সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে এলএনজি সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও দেশের সামগ্রিক গ্যাস সংকট এখনও কাটেনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিরসন হতে কমপক্ষে আরও দুই বছর সময় লাগবে। গতকাল মঙ্গলবার ময়মনসিংহে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। একই সঙ্গে সাময়িক ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
(প্রতিবেদনের তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)
- বিষয় :
- গ্যাস সংকট