ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎ বিভাগের প্রথম এগ্রিভোলটাইক্স পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন

চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎ বিভাগের প্রথম এগ্রিভোলটাইক্স পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন
×

সংগৃহীত ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:১৮

কৃষিজমি রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশের প্রথম বৈজ্ঞানিক কাঠামোবদ্ধ ও গ্রিড সংযুক্ত এগ্রিভোলটাইক্স পাইলট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আজ বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদরে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড)-এর সহ-অর্থায়নে, বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় জিআইজেড বাস্তবায়িত গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন - পলিসি অ্যাডভাইজরি পার্টনারশিপ (গেট-প্যাপ) প্রকল্পের অধীনে ৪৯.৬ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম পাইলট উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এখানে শুধু কাঁচা মরিচ চাষ হলেও আগামী মৌসুমে অন্যান্য উপযোগী মৌসুমী সবজি ও ধান আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিআইজেড জানিয়েছে, জার্মানির ফ্রাউনহফার ইনস্টিটিউট ফর সোলার এনার্জি সিস্টেমস আইএসইর কারিগরি দিকনির্দেশনায় স্থাপিত এই পাইলট প্রকল্পের ক্ষেত্রে মডেলিং, প্রযুক্তিগত নকশা ও ইনস্টলেশনের পাশাপাশি অনুরূপ প্রকল্প স্থাপনের জন্য স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্রাউনহফার আইএসই সংস্থাটি এগ্রিভোলটাইক্সের ধারণার প্রবর্তক এবং ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌরশক্তির ক্ষেত্রে একটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষক ও গবেষক, দেশের শীর্ষস্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট এন্ড কনস্ট্রাকশান (ইপিসি) প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং সিস্টেম অপারেটরদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ছায়া-সহনশীল বিভিন্ন গাছের আবাদ, সোলার সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উপর প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হয়। বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে দেশের অন্যান্য স্থানে এগ্রিভোলটাইক মডেল স্থাপনা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষিত জনবল অগ্রবর্তী ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবে নীতিনির্ধারকগণ পাইলট প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশের এগ্রিভোলটাইক্সের প্রসারের জন্য রোডম্যাপ ও নীতিমালা তৈরিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল সহায়ক হবে বলে পরিদর্শকদল আশা ব্যক্ত করেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের এনার্জি এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড কনজারভেশন শাখার যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ভূমিকে একাধিক কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা কৃষি উৎপাদনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে আপস না করেই আমাদের টেকসই জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকায় জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান উলরিখ ক্লেপম্যান এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের ‘গ্রিন ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক কর্মসূচি ব্যবস্থাপক তানজিনা দিলশাদ।

পাইলট প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, পাবলিক ফাইন্যান্সার এবং স্থানীয় উদ্যোগের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রতিফলন। জার্মানির কেএফডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত মূলধন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর মাধ্যমে প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রকল্প স্থাপনের ব্যয়ের ৮০% ব্যয় সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন প্রকল্পের স্পনসর হিসাবে কাজ করেছে, ইক্যুইটি অবদান রেখেছে এবং তার সৌর সেচ পাম্পিং সাইটে প্রকল্পটি স্থাপন করেছে। পাশাপাশি জিআইজেড এবং ফ্রাউনহাফার আইএসই সার্বিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে চলেছে।

বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে দেশের ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পাইলট থেকে সংগৃহীত বৈজ্ঞানিক তথ্য, আবাদের ফলাফল এবং বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সরাসরি জাতীয় নীতি কাঠামো গঠনে ভূমিকা রাখবে। এগ্রিভোলটাইক্সের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত নকশা, কৃষি এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণ বাংলাদেশে এ ধরনের প্রকল্পের প্রসারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গেট-প্যাপ প্রকল্পটি বাংলাদেশে টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভের অন্তর্বতী। টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সদস্য রাষ্ট্র এবং আর্থিক অংশীদারদের থেকে ৩.৭ বিলিয়নের বেশি অর্থায়ন সংগ্রহ করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে গেট-প্যাপ প্রকল্পটি এগ্রিভোলটাইক্স এবং ফ্লোটিং সোলার সম্পর্কিত জাতীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সহায়তা করেছিল। এর আওতায় বিভিন্ন সাব-ওয়ার্কিং গ্রুপ গবেষণা, গণসচেতনতা, অর্থায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, নীতিমালা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে চলেছে এবং দেশে উদ্ভাবনীমূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ভূমিকা রাখছে। 

আরও পড়ুন

×