স্ক্র্যাপ জাহাজে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ জনের মৃত্যু
সীতাকুণ্ডে গ্রিন শিপইয়ার্ডকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি- সংগৃহীত
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৫২
পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে জাহাজ কাটার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি ছাড়পত্র নবায়ন না করে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি পুরোনো জাহাজ কাটার কাজ চালিয়ে যায়। এর দুই দিন পর, ১৪ আগস্ট জাহাজটিতে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ তদন্ত দল শিপইয়ার্ডটি পরিদর্শন করে। তদন্তে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে শুনানিতে তলব করা হয়। শুনানি শেষে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘এনভায়রনমেন্টাল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতিতে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার ঘটনায় ফেরদৌস স্টিলের স্বত্বাধিকারী ও প্রধান কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের পাসপোর্ট জব্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
বেলার পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের একাধিক রায় ও নির্দেশনা অমান্য করেই ইয়ার্ডটিতে জাহাজ ভাঙার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। জাহাজভাঙা শিল্পে বিষাক্ত গ্যাসমুক্তকরণের ‘গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেট’ নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন আইনি নির্দেশনা থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ‘এমটি রাসি’ জাহাজের কাটিং কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।