ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুরির অপবাদে মা-ছেলেকে মারধর, অপমানে যুবকের আত্মহত্যা

চুরির অপবাদে মা-ছেলেকে মারধর, অপমানে যুবকের আত্মহত্যা
×

প্রতীকী ছবি

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৬:৫৯

মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক যুবককে মারধর করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হন বাকপ্রতিবন্ধী মা। এই অপমান সইতে না পেরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে নাইম মিয়া নামে ওই যুবক। ভুক্তভোগী নান্দাইল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বালুয়া মহল্লার হারুন অর রশিদের ছেলে।

গত মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনা জানতে পেরে নান্দাইল থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। গতকাল বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন তাঁর বাবা হারুন অর রশিদ। অভিযুক্ত চারজন হচ্ছেন– প্রতিবেশী জামশেদ মিয়া, তাঁর ছেলে সোহান মিয়া, ভাতিজা হুমায়ুন ও মঞ্জুরা বেগম।

বাদী হারুন অর রশিদ জানান, তিনি ভ্যানে করে মৌসুমি ফল বিক্রি করে সংসার চালান। তাঁর ছেলে নাইম মিয়া বিভিন্ন জায়গায় রাজমিস্ত্রির জোগালি হিসেবে কাজ করত। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে আমার নিষ্পাপ ছেলে এবং তাঁর মাকে মারধর করেছে প্রতিপক্ষরা। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে নাইম।’

থানায় দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রতিবেশী জামশেদ মিয়ার ছেলে সোহান নিজেই তাঁর একটি স্মার্টফোন অন্যত্র বিক্রি করে। বিষয়টি গোপন রাখার জন্য নাইমকে অনুরোধ করে সোহান। পরে সোহান তাঁর বাবাকে জানায় তার ফোনটি চুরি হয়ে গেছে। কিন্তু জামশেদ মিয়ার সন্দেহ হয় ফোনটি নাইম চুরি করেছে। সন্দেহেরবশে ফোনটি ফেরত দেওয়ার জন্য নাইমকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশপাশি চুরির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সালিশে বিচারের আয়োজন করবেন বলে হুমকি দেন জামশেদ। এই ভয়ে নাইম কিছু দিন আত্মগোপনে ছিল। গত সোমবার রাতে নাইম বাড়িতে ফেরে। খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে জামশেদ মিয়া, তাঁর ছেলে সোহান, ভাতিজা হুমায়ুনসহ আরও কিছু লোক নাইমকে মারধর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় নাইমের বাকপ্রতিবন্ধী মা মজিদা খাতুন বাধা দিলে তাঁকেও মারধর করা হয়। 

চোখের সামনে মাকে মারধরের শিকার হতে দেখে এবং মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অপবাদ সহ্য করতে না পেরে নাইম নিজের শয়নকক্ষে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে নাইম।

অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক বলে জানা গেছে।

নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় নিহত যুবকের বাবা হারুন অর রশিদ মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×