৯ ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সাতটিসহ ১৫ পদ শূন্য
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ভূমি অফিসগুলোতে জনবল না থাকায় সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। বছরের পর বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি পড়ে থাকলেও তা পূরণের উদ্যোগ নেই।
ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজড করা হলেও উপজেলার কোনো ইউনিয়ন অফিসে নেই স্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা না থাকলেও কোথাও কোথাও অফিস সহায়ক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিযুক্তরা এগুলো পরিচালনা করছেন। কোথাও নাইটগার্ড ও অফিস সহায়ক দিয়ে কম্পিউটারের কাজ করানো হচ্ছে।
অনেক অফিসে আবার নাইটগার্ড ও অফিস সহায়কও নেই। অনেক ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নাইটগার্ড পদে লোকবল থাকলেও তারা দিনে অফিস করেন। কম্পিউটার পরিচালনা বা ফাইল আনা নেওয়ার মতো কাজ করেন। ফলে রাতে তারা ডিউটি করেন না। এ অবস্থায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে রাতের বেলায় চুরি বা যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের।
জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার ৯টি পদের মধ্যে ৭টিই শূন্য। ভূমি উপসহকারী ৯টি পদের মধ্যে ২টি শূন্য। কোনো ইউনিয়নেই নেই কম্পিউটার অপারেটর। এসব পদ শূন্য থাকার কারণে ফলে সাধারণ মানুষ ভূমি সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ সুযোগে বেড়েছে দালালদের আনাগোনা।
অনেক অফিসে অফিস সহায়ক ও আউটসোর্সিংয়ে নিযুক্ত কর্মীরা পরিচালনা করছেন কম্পিউটার। তাদের এ সংক্রান্ত দক্ষতা বা প্রশিক্ষণ না থাকায় সরকারের সরবরাহ করা দামি কম্পিউটার পুরোপুরি কাজে আসছে না। একটি সূত্র জানায়, এই আউটসোর্সিং জনবলও কোনো দাপ্তরিক পন্থায় দরপত্র দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ হয়নি। অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিচিতদের মধ্য থেকে কাউকে দিয়ে কম্পিউটার অপারেটরের কাজ করিয়ে নিচ্ছেন।
সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসে নাজির কাম ক্যাশিয়ার, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী এবং নৈশপ্রহরীর পদ ৭ থেকে ৮ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে শূন্যপদের তালিকায় রয়েছে ধানকাড়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, হরগজ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক (পিয়ন), তিল্লি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা, বালিয়াটি ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা, দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ও দুজন অফিস সহায়ক, বরাইদ ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ও দুজন অফিস সহায়ক, দিঘলিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ও অফিস সহায়ক দুজন। সহকারী ভূমি কর্মকর্তার পদগুলো প্রায় তিন বছর এবং উপসহকারী কর্মকর্তার পদ দুটি চার বছর ধরে শূন্য।
সূত্র জানায়, কোনো অফিসে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা না থাকলেও উপসহকারী কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। কাজের চাপে তারা নিজ থেকে চলতি দায়িত্ব পালন করায় একদিকে তাদের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি নিয়ম থাকলেও বাড়তি কাজের জন্য তারা কোনো সুবিধাও পাচ্ছে না।
এসব দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এসব অফিসে ঠিকমতো সরকারি ইন্টারনেট নেই। সার্ভারের সমস্যা শুরু থেকেই। ফলে তাদের ভূমি সেবা প্রদানে জনগণের কাছে নানাভাবে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, যোগ্যতা থাকলেও দুই যুগের বেশি সময় ধরে ইউনিয়ন উপসহকারী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এদিকে, ৪০ ও ৪১ ব্যাচের নন-ক্যাডার বিসিএস কয়েকজনকে উপসহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ না দেওয়ায় তারাও ভালোভাবে কাজ করতে পারছেন না। জনবল না থাকায় জনগণ আমাদের নিয়ে অহেতুক নানা প্রশ্ন তুলেন।
এ বিষয়ে সাটুরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌমিতা গুহ ইভা বলেন, সাটুরিয়া উপজেলায় আমার অফিসসহ ৯টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাতজন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাসহ ১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ভূমি সেবা পেতে মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। লোকবল দিলে এ সমস্যা থাকবে না।
সাটুরিয়ার ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানান, ভূমি অফিসগুলো খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। জনবল সংকটের কারণে মানুষের সমস্যা হচ্ছে। জেলার মাসিক সমন্বয় সভায় জনবল সংকটের কথা বলা হলেও জনবল দিচ্ছে না। সেক্ষেত্রে জনবল যা আছে তাই দিয়েই চলতে হচ্ছে। ফলে শতভাগ ভূমি সেবা পেতে মানুষের কিছুটা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
- বিষয় :
- ভূমি