ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই সংস্থার সমন্বয়হীনতায় ‘মরণফাঁদ’ বিরিঞ্চি সেতু

দুই সংস্থার সমন্বয়হীনতায় ‘মরণফাঁদ’ বিরিঞ্চি সেতু
×

কুমড়াছড়া খালের বিরিঞ্চি সেতুতে রেলিং ভেঙে যাওয়ায় দেওয়া বাঁশের বেড়া। ফেনী শহরতলির বিরিঞ্চি-সোনাপুর সড়ক থেকে সম্প্রতি তোলা সমকাল

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফেনী শহরতলির বিরিঞ্চি-সোনাপুর সড়কের কুমড়াছড়া খালের ওপর নির্মিত বিরিঞ্চি সেতুটি বর্তমানে এক ভয়ংকর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান আমলে নির্মিত জরাজীর্ণ এই সেতুর মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে এবং দেখা দিয়েছে বিপজ্জনক ফাটল। ঝুঁকি নিয়েই সেতুর একপাশ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে পথচারী ও যানবাহন।
সেতুটি ফেনী পৌরসভার সড়কের শেষ প্রান্তে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়কের শুরুতে অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এর মালিকানা নিয়ে জটিলতা চলছে। এক সংস্থা অন্য সংস্থার ওপর দায় চাপানোয় থমকে আছে সংস্কারকাজ। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে স্থানীয়দের।
ফেনী পৌরসভা ও সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সেতু দিয়ে বিরিঞ্চি, পশ্চিম সোনাপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। ওই এলাকায় একাধিক সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রোগী ও কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পার হচ্ছে। 
বিরিঞ্চি এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তান আমলে নির্মিত সেতুটির নিচের অংশ ও রেলিং ভেঙে গেছে। রোগী ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। সরকারের উচিত দ্রুত এটি নতুন করে তৈরি করা।

টমটম চালক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, গাড়ি উঠলে সেতু কেঁপে ওঠে, যাত্রীরা আঁতকে ওঠেন।
ফেনী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ জামিল বলেন, ‘সেতুটি ফেনী পৌরসভার রাস্তার শেষ প্রান্তে এবং এলজিইডির সড়কের শুরুর প্রান্তে পড়েছে। পৌরসভা যেহেতু এর মালিকানা নিচ্ছে না, তাই আমরাও কাজ করতে পারিনি। তবে জনদুর্ভোগ লাঘবে এটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ বা মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, সেতুটি পৌরসভার অধীনে নয়। এটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের। তারা নির্মাণ না করলে আমরা পরিষদের সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করব। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×