শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে ক্লাসে ক্লাসে ডিসি
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান গতকাল বুধবার মহানগরের ঠনঠনিয়া এলাকায় বগুড়া সিটি গার্লস স্কুল ও কলেজ পরিদর্শনকালে বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন -সমকাল
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
জেলা প্রশাসক (ডিসি) জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি জেলা পর্যায়ে সরকারের নীতি, আইন ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন এবং বিভিন্ন দপ্তরের কাজ সমন্বয় করেন। ভোর থেকে রাত ১২টা; কখনও কাকডাকা ভোর পর্যন্ত জেগে কাজ করতে হয় জরুরি প্রয়োজনে। এসব ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে নানা সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হন জেলার প্রায় সব শ্রেণি-পেশার নাগরিক। বড় জেলার ক্ষেত্রে কাজের পরিধি আরও ব্যাপক। তার মধ্যে একটি জেলা বগুড়া। এখানে জেলা প্রশাসকের রুটিন কাজের চেয়েও কয়েক গুণ কাজ করতে হয়। এত কিছুর পরও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান সময় পেলেই ছুটে যান বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার মান যাচাই ও শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিতে নিজেই ক্লাস নেন।
নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার বগুড়া মহানগরের ঠনঠনিয়া এলাকায় শেরপুর রোডের বগুড়া সিটি গার্লস স্কুল ও কলেজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণিতে ২০ মিনিট করে ক্লাস নেন তিনি।
ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডিসি তৌফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মৌলিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। যে কোনো একটি লক্ষ্য স্থির করে এগোতে হবে। বড় হওয়ার জন্য দারিদ্র্য কোনো বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে সাফল্যের দিকে ধাবিত করে। যে কোনো সমস্যা বুদ্ধি, বিচক্ষণতা দিয়ে জয় করতে হবে। ভালো ফল করার জন্য বুঝে মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করতে হবে। সেই সঙ্গে খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক গঠন ঠিক রাখতে হবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। শিক্ষার মান বাড়াতে তাদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ে নিয়মিত প্রতিমাসে একটি পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন জেলা প্রশাসককে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ৭৯০ জন। এবার ৯৫ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭৪ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১ জন। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আগামীতে যাতে আরও ভালো ফল করতে পারে, সে জন্য তাদের চেষ্টা থাকবে বলে জেলা প্রশাসককে আশ্বস্ত করেন তিনি।
ডিসি তৌফিকুর রহমানের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করে ২৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। এর আগে তিনি খুলনায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্কুল পরিদর্শনকালে তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে সমকালের আলাপ হয়। বগুড়া জেলা প্রশাসক সমকালকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক হিসেবে জেলার শিক্ষার অবস্থার খোঁজ নেওয়া আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। শিক্ষার মান যাচাইয়ের জন্য ক্লাস নিই। সময় পেলেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষার নানা বিষয়ে আলোচনা করি। এতে তারা অনুপ্রাণিত হয়।’
- বিষয় :
- ডিসি