চট্টগ্রামে দুর্নীতি মামলায় বাবার ৩, ছেলে ৪ বছর কারাদণ্ড
ছবি: ফাইল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৩২
সাত কার্যদিবসে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আব্দুল্লাহকে ৪ বছর ও তার বাবা আবুল বশরকে ৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান এর আদালত এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল মো. আব্দুল্লাহর নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে দুদক। নির্ধারিত সাত কার্যদিবসে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। এমনকি পরবর্তীতে সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি। দুদকের অনুসন্ধানে আব্দুল্লাহর নামে মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার ৬৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায় ১০ লাখ টাকা। ফলে এক কোটি ২৩ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।
অন্যদিকে, আবুল বশরের বিরুদ্ধে ছেলেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিলের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা দিয়ে একটি জমি কেনেন আবুল বশর। এর মাত্র তিন মাসের মধ্যে ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ওই জমি তার বড় ছেলে আব্দুল্লাহকে হেবা করেন। এর মাধ্যমে বাবা-ছেলে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করেন। আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৭ সালে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয় দুদক। ওই বছরের ১০ আগস্ট চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুন বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইন বলেন, সাত কার্যদিবসে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি আব্দুল্লাহকে ৪ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৮ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বাবা আবুল বশরকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।