ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের জানালা ভেঙে পালিয়েছেন ৪০ জন

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের জানালা ভেঙে পালিয়েছেন ৪০ জন
×

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবড়িয়া

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০২:২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রয়াস নামে একটি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসাধীন এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সেখানে চিকিৎসাধীন প্রায় ৪০ জন রোগী জানালা ভেঙে একসঙ্গে পালিয়ে গেছেন। গত বুধবার দুপুরে শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পুনর্বাসন কেন্দ্রটিতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. ফোরকান (২৯) নবীনগর উপজেলার কুড়িঘর গ্রামের রাশেদ মিয়ার ছেলে। কাতারপ্রবাসী ফোরকান ছয় মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন। দেশে ফেরার পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাঁকে প্রয়াসে ভর্তি করা হয়। 

নিহতের পরিবার ও স্বজনের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে ফোরকানের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। নিহতের ভগ্নিপতি ইমন হোসেন বলেন, ‘সুস্থ করতে শ্যালককে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠালাম। কিন্তু পাঁচ দিনের মাথায় সে লাশ হয়ে ফিরল। প্রয়াসের লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।’ 

তিনি জানান, তিন মাসের জন্য ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে ফোরকানকে ১৪ আগস্ট প্রয়াসে ভর্তি করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ফোরকানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। ইসিজি পরীক্ষার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে রেখে পালিয়ে যায় তারা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

ফোরকানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাময় কেন্দ্রে থাকা অন্য ৪০ রোগীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত বুধবার দুপুরে তারা তিনতলার জানালা ভেঙে পাশের ভবনের ছাদে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন নিরাময় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। 

তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রয়াসের পরিচালক প্রমোদ বর্মণ। তাঁর দাবি, ফোরকান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের কেন্দ্র ভাঙচুর করেছে এবং ৪০ জন রোগী পালিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি খালি হয়ে পড়েছে। 

জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান বলেন, ‘যেহেতু নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ তদন্ত করে বের করবে।’ তারা প্রতি মাসেই এসব কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বলেও দাবি করেন তিনি। 

এর আগেও ২০১৪ সালের ৯ আগস্ট প্রয়াসের পরিচালকদের বিরুদ্ধে কান্দিপাড়ার শাকিল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন

×